কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় টানা দুই দিনের ভারি বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৫ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি নিমজ্জিত হয়ে গেছে।
নিম্নাঞ্চল ও বিল এলাকায় ফসল তলিয়ে গেছে
উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিম্নাঞ্চলসহ বিলভরা ও নবাগিয়া বিলের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিন নামা লক্ষীয়া, বিলভরা ও নবাগিয়া বিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গত দুই দিনের বৃষ্টিতে প্রায় ২৫ হেক্টর বোরো ধান সম্পূর্ণ পানির নিচে এবং প্রায় ২৫ হেক্টর জমির ধান আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দেড় ফুট পানিতে ডুবে আছে পাকা ও আধাপাকা ধানখেত।
কৃষকদের প্রতিক্রিয়া
নামা লক্ষীয়া গ্রামের কৃষক নুরুল হক বলেন, 'গত দুই দিনের বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আমার ৫০ শতাংশ জমির বোরো ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।'
কুমারপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তার ৩০ শতাংশ জমির কাটা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। একই অবস্থা অনেক কৃষকের। ধান কাটার উপযুক্ত সময়ে এভাবে ডুবে যাওয়ায় তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সরকারি হিসাব ও স্থানীয় ধারণা
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১ হাজার ২৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হিসেবে নবাগিয়া বিলের ২৫ হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি নিমজ্জিত হয়ে গেছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য
এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বলেন, 'গত দুই দিনের বৃষ্টিপাতে শুধু নবাগিয়া বিলের ২৫ হেক্টর জমির বোরো ধান পুরোপুরি নিমজ্জিত হয়েছে। তবে উপজেলার অন্যান্য এলাকার আংশিক নিমজ্জিত ধানখেতের পানি আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। এতে কৃষকের তেমন ক্ষতি হবে না।'
তবে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।



