রায়পুরে ১৬০ মিমি বৃষ্টি, মেঘনা চরের ফসল ডুবে কৃষকের হাহাকার
রায়পুরে ১৬০ মিমি বৃষ্টি, চরের ফসল ডুবে কৃষকের হাহাকার

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও মেঘনার পানি উপচে উপকূলীয় চরাঞ্চলের কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি, সয়াবিন, পান ও সবজি তলিয়ে গেছে। নদী উপচে পানি ঢুকছে মেঘনার চরের জমিতে। পানির নিচ থেকে আধাপাকা ধান কাটলেও তিন দিনের বৈরী আবহাওয়ায় ধান কাটা বন্ধ রয়েছে চরাঞ্চলে।

ক্ষতির শঙ্কায় কৃষক

এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটতে না পারলে অবশিষ্ট একমাত্র ফসল বোরো ধান, সয়াবিন ও পান পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় কৃষকরা। লক্ষ্মীপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও কয়েক দিন এমন ভারি বৃষ্টি থাকবে। বৃষ্টির ধারাবাহিকতায় বড় ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে মেঘনা উপকূলীয় চরাঞ্চলের বোরো ধান, সয়াবিন ও পানসহ সবজি উৎপাদনে। কখন বৃষ্টি থামবে, আর কখন এই ধান গোলায় তোলা যাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে। সবমিলিয়ে উপকূলীয় কৃষকদের চোখে মুখে এখন হাহাকার।

মিলন মিয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ

মেঘনার চরকাছিয়া চরে পানিতে তলিয়ে গেছে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়ার সারা বছরের স্বপ্ন। তিনি এবার ধানের আবাদ করেছিলেন ৬ একর জমিতে। জমির সোনালি বোরো ধান মেঘনার করাল গ্রাসে নিমজ্জিত। যে ধান কয়েক দিন পর ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পচা পানির নিচে ডুবে আছে। বুক সমান পানিতে নেমেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রশাসনের কাছে এ বিশাল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আর্থিক প্রণোদনা ও সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষক মিলন মিয়া।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবদুল জলিলের দুর্দশা

জালিয়ার চরের কৃষক আবদুল জলিল বলেন, দেড় একর জমিতে এবার ব্রি-৮৮ ধান চাষ করি। ধান পেকে যাওয়ায় কাটতেও শুরু করেছি। ৪ দিন পর ধান কাটার কথা ছিল। নদীতে পানি চলে আসায় বেশির ভাগ ধান পানির নিচে চলে গেছে। আধাপাকা ধান কোনোভাবে কাটতে হচ্ছে। রোদ পেলে শুকিয়ে নিজের জন্য খাওয়া যাবে। বাজারে বিক্রির কোনো উপায় নেই। এদিকে রয়েছে ঋণের বোঝা। কিভাবে এতসব সামলাবো, ভেবেই কুল কিনারা পাচ্ছি না।

হাবিব মিয়ার বাঁধ নির্মাণের দাবি

আরেক কৃষক হাবিব মিয়া বলেন, এ বছর ধান ও সয়াবিন চাষ করেছিলেন প্রায় ৫ একর জমিতে। আমার মতো অনেক কৃষকের একরের পর একর ধানি, সয়াবিন ও পান জমির পানিতে তলিয়ে গেছে। আমাদের জমি তলিয়ে যাওয়ার কারণ হলো মেঘনা নদী। রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়া হলে আমরা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব। নয়তো কৃষকরা না খেয়ে মারা যাবে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে রায়পুরের কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম জানান, মেঘনার চরাঞ্চলে আবাদ করা ১২ হাজার হেক্টর বোরো ধানের ২০ শতাংশ কাটা শেষ হয়েছে। আগামী সাত দিন পরই ৮০ ভাগ ধান পাকলেই কৃষকদের কাটার পরামর্শ দেয় কৃষি বিভাগ। এখন ২০ শতাংশ ধান আধাপাকা অবস্থায় কাটতে হচ্ছে। ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন, ৩শ হেক্টর জমিতে সবজি ও আড়াইশ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়। আসলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারো কিছুই করার থাকে না। তবুও যদি আবহাওয়া একটু ভালো হয়, দ্রুত বাকি ধানগুলোও কেটে ফেলতে হবে। সয়াবিন ও পান তোলার চেষ্টা চলছে।