সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণে হাওড়াঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে চরম কৃষি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকের ঘরে ধান ওঠার আগেই হাওড়ের পাকা বোরো ধান তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে।
ধান রক্ষায় কৃষকদের আপ্রাণ চেষ্টা
ঠান্ডা ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও ভারি বৃষ্টি উপেক্ষা করে কৃষকরা হাওড়ের দিকে ছুটছেন। হাঁটু থেকে বুক সমান পানিতে নেমে পরিবারের সারা বছরের খাদ্য জোগানের ধান কেটে আনার চেষ্টা করছেন তারা।
জামালগঞ্জের হালির হাওড়, পাগনা, শনি, মহালিয়াসহ ছোট-বড় হাওড়গুলোর বিস্তীর্ণ জমি ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। কোথাও ধান পুরোপুরি তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে। এক ফসলি এলাকা হওয়ায় জীবন-জীবিকার শেষ ভরসা রক্ষায় কৃষকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কোমর সমান পানিতে নেমে, কেউ নৌকায় করে জমিতে গিয়ে ধান কাটছেন। অনেকে স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে নেমেছেন।
কৃষকদের বক্তব্য
হালির হাওড়ের কৃষক খালেক মিয়া বলেন, '১৬ কেদার জমির মধ্যে মাত্র দুই কেদার ধান কেটে খোলায় তুলেছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা পচে যাচ্ছে। জমিতে পানি থাকায় মেশিন ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না, তাই জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।'
শনির হাওড়ের কুকড়াপড়শী গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, 'আমার সব শেষ হয়ে গেল, একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধার-দেনা করে জমি চাষাবাদ করেছিলাম, এখন সারা বছর কীভাবে চলব?'
পাগনার হাওড়ের আমির আলী জানান, তার ২১ কেদার জমির মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪ কেদার তলিয়ে গেছে, বৃষ্টি না থামলে বাকি জমিও ডুবে যাবে।
শ্রমিক ও জ্বালানি সংকট
বিভিন্ন হাওড়ের কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, এক মণ ধানেও একজন শ্রমিক মিলছে না। একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে জ্বালানি সংকট; সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেস্টার ব্যবহারও বন্ধ রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ২৪ হাজার ৫শ ৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে, যার লক্ষমাত্রা প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন চাউল।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত সাড়ে ৬শ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা। তিনি সতর্ক করে বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।



