সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচি: দেশজুড়ে ২০ হাজার কিমি খাল খননের পরিকল্পনা
সরকারের খাল পুনঃখনন: ২০ হাজার কিমি খাল খনন পরিকল্পনা

একসময় দেশের গ্রামাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান প্রাণশক্তি ছিল নদী ও খাল। সেগুলো সেচের পানি সরবরাহ করতো, মাছ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করতো এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে জলপথ যোগাযোগও বজায় রাখতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার খাল ভরাট হয়ে গেছে, অনেকগুলো দখল হয়ে গেছে, কিংবা নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ জীবিকার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে খাল কাটা কর্মসূচি

নির্বাচনি প্রচারণার অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে শুরু হয় খাল কাটা কর্মসূচি। এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু খাল পুনঃখনন করা নয়; বরং দেশের ঐতিহ্যবাহী পানিব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করে খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং গ্রামীণ জীবিকার শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করা।

কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী মোট ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার অধীনে বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় কাজ চলমান রয়েছে। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বড়রামপুরে ১২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। সবশেষ সোমবার যশোরের শার্শা উপজেলার উলশীতে ঐতিহাসিক উলশী-যদুনাথপুর খাল (জিয়া খাল) পুনঃখনন কাজ শুরু হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৫৪ জেলায় একযোগে খাল খনন

প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে একযোগে ৫৪টি জেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি চলছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে বর্তমান সরকার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে, যার লক্ষ্য দেশের সেচ ব্যবস্থা ও কৃষির উন্নয়ন। এই কাজের সামগ্রিক অগ্রগতি ২৫ শতাংশের বেশি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ছয় মাসের মধ্যে ১২০০ কিলোমিটার খননকাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

গাজীপুরে জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত তিন খালের খননকাজ চলছে

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত তিনটি খাল খনন কাজ চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এই খননকাজ হচ্ছে। উপজেলার রতনপুর রেলসেতু হতে সুরিচালা ও মকসবিল হয়ে তুরাগ নদী পর্যন্ত খাল খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪৭০ টাকা।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ফুলবাড়িয়ায় গোয়ালিয়া নদী থেকে শিমুলিয়াপাড়া পর্যন্ত খাল খনন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৪০ টাকা। খাল পুনঃখনন শুরু হওয়ায় এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে জানান স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা।

জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত শ্রীপুর পৌরসভার ছাপিলাপাড়া গ্রামে চৌক্কার খাল (লবলং খালের শাখা) খননকাজ শুরু হয়েছে। গত মার্চ মাসে পানিসম্পদমন্ত্রী পরিদর্শন করে খালটির খননকাজ শুরু হয়। ১৯৭৮-৭৯ সালে জিয়াউর রহমান নিজে কোদাল হাতে শ্রমিকদের গম দিয়ে এই খাল খননের কাজ শুরু করেছিলেন।

মহানগরীর গাছা এলাকার খালটিকে গাছা খাল, টঙ্গী খাল বা নিমতলী খালও বলা হয়। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশ রক্ষায় টঙ্গী-গাছা এলাকার গাছা খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। মার্চ মাসে এটির উদ্বোধন করা হয়। ৮৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গাছা খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খননের ফলে স্থানীয় কৃষি এবং পরিবেশের উন্নতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ লাঘব হবে। খালের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ১২.০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীন এই খালটি গাছা এলাকা থেকে উত্তরখাইলকুর বাঁকা সেতু, মইরান সেতু, বগারটেক সেতু, শুকুন্দিবাগ, গাজীপুরা, বনমালা, হায়দ্রাবাদ ও নিমতলী হয়ে তুরাগে গিয়ে মিশেছে। একযোগে তিনটি খালের পুনঃখনন কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি প্রায় ২৫ শতাংশ।

সিলেটে এগিয়ে চলেছে খাল খননের কাজ

সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি। জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের জাফরাং খাল পুনঃখনন কাজ পরিদর্শন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

পাউবোর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘খাল ও নদী খননের অগ্রগতি প্রায় ২০ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২ মে সিলেটে বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ৪০ কিলোমিটার বাসিয়া নদীর সাড়ে ২৩ কিলোমিটার খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে ১২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য স্থানে খাল খনন কর্মসূচি জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে চলছে।’

নওগাঁয় দুটি খাল পুনঃখনন চলছে

নওগাঁর সদরে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। ১৮ এপ্রিল হাসাইগাড়ী ইউনিয়নের হামরার বিলে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু।

পাউবো ও সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় খাল দুটি খনন করা হচ্ছে। হাসাইগাড়ী ইউনিয়নের হামরার বিল থেকে কৃষ্ণপুর পর্যন্ত ২ হাজার ৪০ মিটারের একটি খাল খননের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বক্তারপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর থেকে হরিপুর হয়ে কালুপাড়া বিল পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মিটারের আরেকটি খাল খননের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ লাখ টাকা।

সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, ‘প্রায় ৫৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। আমরা দেখেছি এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সবুজ বিপ্লব হয়েছিল। এজন্য দীর্ঘদিন পর তারই সন্তান তারেক রহমান একই কর্মসূচি শুরু করেছেন। সদর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা উপকৃত হবেন অন্যদিকে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণ হবে। খালের পাড়ে বিভিন্ন ধরনের ফলজ গাছ এবং শাকসবজি চাষাবাদ হবে। দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে ভবিষ্যতে এসব খাল ভূমিকা রাখবে।’

ফরিদপুরে চার খাল খননে ব্যয় ৫ কোটি ৭৮ লাখ

ফরিদপুর জেলায় ১৬টি খাল খনন প্রকল্পের মধ্যে বর্তমানে দুটি উপজেলায় চারটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ১৬ মার্চ কাজ শুরু হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় খাল চারটি খনন করা হচ্ছে। সদরপুর উপজেলায় দুটি খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দরিকৃষ্ণপুর খাল পুনঃখননের কাজ চলছে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ টাকা। আরেকটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সদরপুর উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কামরুন নাহার এ তথ্য জানান।

অন্যদিকে ভাঙ্গা উপজেলায় চলমান রয়েছে দুটি খাল খনন প্রকল্প। ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এসব খাল খননকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম।

ভাঙ্গা উপজেলার চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীফাবাদ হ্যালন ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন খাল খারদিয়া হয়ে শাহজাহান শেখের বাড়ি হয়ে কুমার নদী পর্যন্ত পুনঃখনন। এ ছাড়া ঘারুয়া ইউনিয়নের রশিবপুরা থেকে মকরমপট্টি পর্যন্ত খাল পুনঃখনন এবং মানিকদাহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা পর্যন্ত খাল খনন কাজও চলমান রয়েছে। অগ্রগতি ২০ শতাংশের বেশি বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং নৌ-চলাচলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সুফল মিলবে।’

নোয়াখালীতে একটি খাল পুনঃখনন চলছে

গত ১৬ মার্চ নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়ন ও কবিরহাট উপজেলার পেটকাটা খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। পেটকাটা খালটির ৭ কিলোমিটার নোয়াখালী সদর ও ৩ কিলোমিটার কবিরহাট উপজেলায় অবস্থিত। এটি পুনঃখননের মাধ্যমে ১০ কিলোমিটার দূরে নোয়াখালী খালের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। খালটির পুনঃখনন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬০ টাকা। বিএডিসি নোয়াখালীর তত্ত্বাবধানে খালটি পুনঃখননের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিপ্লব সিন্ডিকেট বাস্তবায়ন করছে।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইতোমধ্যে খালটির প্রায় তিন কিলোমিটার পুনঃখনন সম্পন্ন হয়েছে। যা মোট কাজের প্রায় ৩০ শতাংশ। বর্তমানেও খালটির খননের কাজ চলছে।

বিএডিসি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী হুসাইন মুহাম্মদ খালিদুজ্জামান বলেন, ‘উদ্বোধনের পরপরই নোয়াখালীতে খালটির পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। এখনও চলমান রয়েছে। কাজের প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শতভাগ কাজ সম্পন্ন হবে।’

রাজশাহীতে খাল খনন কার্যক্রম অব্যাহত

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ১৪ এপ্রিল নন্দনপুর মড়া সন্ধ্যা নদী থেকে বিল কান্তা হোজা নদী পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নন্দনপুর মড়া সন্ধ্যা নদী হতে বিলকান্তা হোজা নদী পর্যন্ত খাল খনন শীর্ষক এ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৫৩৮৯ মিটার। প্রকল্পটি পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের আশা, খাল খননকাজ সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনসহ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি ঘটবে।

এর আগে ১৬ মার্চ গোদাগাড়ী উপজেলার দমদমা খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ওই দিন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বিল লতা খালের বেলগাপুর থেকে জুলুপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মিটার খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসব খাল খননকাজ এখনও অব্যাহত আছে।

জুন মাসের মধ্যে মাগুরায় ১৬টি খাল পুনঃখনন কাজ শেষ হবে

১৬ মার্চ মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাবুখালি রায়পুর স্লুইজগেট থেকে বালিদিয়া নিরবিশখালি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন প্রায় ৮৯২ জন শ্রমিক খননকাজ করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা জেলায় মোট দেড় শতাধিক খাল রয়েছে। তার মধ্যে চলতি জুন মাসের মধ্যে জেলার ১৬টি খালের ২১.৭ মিটার পুনঃখনন করা হবে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের নারায়াণপুরের খালটি ৯৫৫ মিটার খননের মাধ্যমে উদ্বোধন শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কাজ করা হবে।

ময়মনসিংহে উদ্বোধনী ফলকেই সীমাবদ্ধ, শুরু হয়নি দুই খালের খননকাজ

ময়মনসিংহে দুটি খাল খননকাজের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর আর খাল খননের কাজ শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বরাদ্দ না পাওয়ায় এখনও কার্যক্রম শুরু হয়নি। কবে শুরু হবে, তাও জানা নেই।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলা থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা একটি কমিটির মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খননযোগ্য দুটি করে খালের তালিকা তৈরি করেন। সেখান থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯টি উপজেলার ১১টি খাল খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। ‘নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির আওতায় এসব খালের ৫৫ কিলোমিটার খননে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ কোটি টাকা।

খালগুলো হলো মুক্তাগাছার সিংড়া খাল (লাঙ্গুলিয়া কাজলকোঠা বিল থেকে বাদেকলমোহনা পর্যন্ত), ভালুকার বাকা খাল (কুশালি খাল), ফুলপুরের কারাইকান্দা খাল, হালুয়াঘাটের খরিয়া খাল ও কাচুন্দারা খাল, গৌরীপুরের বলার বিল খাল ও মইজগা বিল থেকে চাকুরিয়া বিল হয়ে ধলিয়া বিল পর্যন্ত খাল, তারাকান্দার রামপুর খাল (বুড়বুড়িয়া বিল), ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা এনায়েতনগর থেকে গুইলাকান্দা হয়ে মৃগালী পর্যন্ত বউগলা কোদাল ধাওয়া খাল, ময়মনসিংহ সদরের চকশ্যামপুর খাল ও ফুলবাড়িয়ার রাধাকানাই ইউনিয়নের দবরদস্তা মোলঙ্গী খাল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ মুক্তাগাছার সিংড়ার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। খালটির ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার খনন করার কথা আছে। একই দিন গৌরীপুর উপজেলার বলার বিল খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। খালটির পাঁচ কিলোমিটার খনন করা হবে।

এর মধ্যে গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের বলার বিল খালের পুনঃখনন প্রকল্পের অগ্রগতির কাজ দেখতে গিয়ে শুধু উদ্বোধনী ফলক পাওয়া যায়। সিধলা ইউনিয়নের মনাটি গ্রামের হযরত আলীর (৬৫) বাড়ির পাশে আছে ফলকটি। তিনি বলেন, উদ্বোধন করে গাছ লাগিয়ে গেছেন। কিন্তু বাস্তবে খননকাজ এখনও শুরু হয়নি। খালটি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় এলাকার শত শত একর জমি বর্ষায় পানিতে তলিয়ে থাকে, ফসল উৎপাদন করা যায় না।

ময়মনসিংহ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘গভীরতা ও প্রস্থের ওপর ভিত্তি করে প্রতি কিলোমিটারে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা খনন ব্যয় ধরা হয়েছে। বাজেট যেহেতু পাওয়া যায়নি, এ কারণে খনন শুরু হয়নি। তবে সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্ত করার জন্য কাজ চলছে। বাজেট পেলে পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে।’

জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘যেসব খালের খননকাজ উদ্বোধন করা হয়েছে, সেগুলোয় কাজ করা যায়নি। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে। এখনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।’

এ ছাড়াও রাঙামাটির সাপছড়ি ও কুতুকছড়ি ইউনিয়নে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ, বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় খননকাজ উদ্বোধন, মির্জাপুর এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন, লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুর উপজেলার সংযোগকারী সি-খাল ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃখনন করা হচ্ছে।

পাশাপাশি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খালের ১২.২ কিলোমিটার অংশ খনন করা হচ্ছে। শার্শা উপজেলায় উলশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে ত্রিপুরাছড়া থেকে ডিম্বুখ্যাছড়া পর্যন্ত ৮ কি.মি. এলাকা খনন করা হচ্ছে। খুলনাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৬টি খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনে ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ১২০০ কিলোমিটারের বেশি খাল দৃশ্যমান করার পরিকল্পনা করেছে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন/পুনঃখনন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষিখাতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা দূর এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা।