রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামে দেড় বিঘা জমিতে ২০৪ জাতের আঙুর চারা রোপণ করে সাড়া ফেলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা এএস ফারদিন আহমেদ। তার বাগানে বাইকুনুর, ফ্যান্টাসি, ভ্যালেজ, রুরিনোমান, একোলা, ব্লাক ম্যাজিক, জয়সিডলেস, ল্যাম্বরগিনি, এলিস ইন ওয়াল্যান্ডার ল্যান্ডসহ বিভিন্ন জাতের আঙুর থোকায় থোকায় ঝুলছে।
তরুণ উদ্যোক্তার পথচলা
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গ্রেপ ইঞ্জিনিয়ারিং এগ্রো অ্যান্ড রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা ফারদিন আহমেদ ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। শখ করে বাড়ির উঠানে একটি আঙুর গাছ রোপণ করলেও ফলন খাওয়ার উপযোগী ছিল না। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। ২০২৫ সালের মে মাসে বাড়ির পাশের দেড় বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক আঙুর চাষ শুরু করেন এবং একে একে ২০৪ জাতের প্রায় ৫০০টি গাছ রোপণ করেন।
দর্শনার্থীদের ভিড় ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ফারদিনের আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছেন। বেশির ভাগ দর্শনার্থী জানান, গ্রামের মধ্যে এভাবে আঙুর চাষ তারা আগে কখনো দেখেননি। পাশের বাড়ির বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, গ্রামের ভেতর এত জমি নিয়ে আঙুর চারা রোপণ দেখে তারা খুশি। অপর বাসিন্দা সেলিনা আক্তার বলেন, ফারদিন তাদের দেবর এবং তার আঙুর গাছের থোকা গ্রামবাসীকে মুগ্ধ করেছে।
ব্যবসায়িক সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফারদিন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় আঙুরের চারা বিক্রি করছেন। তিনি এটিকে লাভজনক ব্যবসা বলে মনে করেন এবং প্রতি বিঘায় বছরে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। ভবিষ্যতে এই আঙুর বাগানকে ঘিরে রিসোর্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
কৃষি বিভাগের সহায়তা
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার জানান, তিনি সরেজমিনে ফারদিনের আঙুর চাষ দেখেছেন এবং এটি প্রশংসার দাবি রাখে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



