প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সভাপতিত্বে শনিবার সকালে তেজগাঁও এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) অনুষ্ঠিত এক সভায় জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশীয় প্রযুক্তিতে বৈদ্যুতিক অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) জানান, সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে শনিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।'
প্রাথমিকভাবে একটি নির্বাচিত উপজেলায় মডেল হিসেবে এই প্রকল্পের আওতায় অ্যাম্বুলেন্স নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সফল হলে এই উদ্যোগ দেশের অ্যাম্বুলেন্স চাহিদা পূরণ এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করেন শিপলু।
তিন স্তরের সেবা পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সরকার তিন স্তরে এই সেবা প্রদানের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্যে তিন ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা আলোচিত হয়েছে—গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত সেবা প্রদানের জন্য।
সভায় জানানো হয়, সরকারি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ সম্ভব হবে। একইসঙ্গে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় প্রযুক্তি ও নকশা
প্রেস উইং আরও জানায়, বিশেষজ্ঞরা সভায় জানান যে, দেশীয়ভাবে তৈরি অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্ট এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা ও সড়ক নেটওয়ার্ক বিবেচনায় রেখে গাড়িগুলো ডিজাইন করা হবে।
সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক মো. এহসান, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, মো. আবদুস সালাম আকন্দ ও জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



