বৃক্ষরোপণ সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে: বাসস চেয়ারম্যান
বৃক্ষরোপণ সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে

বাসসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন বলেছেন, বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেন, বৃক্ষ আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু, যা ছায়া, মায়া, প্রশান্তি ও অক্সিজেন দেয়। একটি পূর্ণবয়স্ক বৃক্ষ দশজন মানুষের অক্সিজেন সরবরাহ করে।

বৃক্ষের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব

আনোয়ার আলদীন আরও বলেন, গবেষকদের মতে, পঞ্চাশ বছরের একটি বৃক্ষের আর্থিক মূল্য প্রায় এক লাখ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার। বৃক্ষ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজের সঙ্গে জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার, নদী-খাল দখল ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে অনেক প্রাণী, উদ্ভিদ ও অণুজীব হারিয়ে যাচ্ছে। তাই গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষার উপাদান নয়, এটি টিকে থাকার নিরাপদ আশ্রয়। ইসলামে বৃক্ষরোপণকে উত্তম ইবাদত ও সদকায়ে জারিয়া বলা হয়েছে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

বুধবার সকালে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাশকাটি ফুটবল মাঠে ফলদ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বছরব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। হরিদাশকাটি স্বাধীনতা সংসদের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ আল-এহসান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহরিয়ার সেলিম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা সংসদের উপদেষ্টা শেখ আল এমরান, ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউপি সদস্য শেখ আব্দুল গফুর, শেখ আনিসুর রহমান শিবলু, শেখ হারুন, কমিটি ও ক্লাব সদস্য উৎপল দে, তপন কর, খান জাবেদ, শেখ সাহান আব্দুল্লাহ, হাসান আব্দুল্লাহ, শেখ তুহিন, শেখ মিজান, শেখ সোয়েব, খান মোবারেক হোসেন, মৃদুল, মুশফিক, রাসেল, সাকিব, শহিদুল, বব রকি, মামুন, আশিক, রায়হান, মাসুম, আপন প্রমুখ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই

আনোয়ার আলদীন বলেন, গাছপালা ও বনভূমি ধ্বংস করে মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে না। গাছের পৃথিবী সংকুচিত হলে মানুষের নিরাপত্তাও সংকুচিত হয়। জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশ ও পরিবেশ বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়তে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গাছ লাগাতে হবে এবং কাটা গাছের জায়গায় নতুন গাছ রোপণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছর নগরায়ণ, কৃষি সম্প্রসারণ ও কাঠের জন্য লাখ লাখ গাছ কাটা হচ্ছে। এই অপূরণীয় ক্ষতি রোধে রোপণই একমাত্র উপায়। বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময়, কারণ বর্ষায় রোপিত গাছ সহজে শিকড় গাড়তে পারে এবং বেড়ে ওঠা ও টিকে থাকা সহজ হয়। প্রতিটি গ্রামে দেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে। রাস্তার পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, খাসজমিতে ও বাড়ির আঙিনায় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো জরুরি। শুধু বিদেশি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ নয়, দেশীয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশি মাছ, দেশি ধান, অচাষকৃত শাক ও জলজ প্রাণ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। একটি গাছ লাগানো মানে ভবিষ্যতের জন্য জীবন রোপণ করা।

প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের প্রশংসা

প্রত্যেক বাড়িতে বেশি বেশি ফলদ ও ঔষধি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে আনোয়ার আলদীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বাঁচাতে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রকৃতি ও পরিবেশের চিত্র বদলে যাবে। প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা অনুধাবন করে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যা এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংগঠনের কার্যক্রম

সভাপতির বক্তব্যে শেখ আল-এহসান বলেন, হরিদাশকাটি স্বাধীনতা সংসদ দীর্ঘদিন ধরে গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে কাজ করছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছ বিতরণ, সড়কের পাশ ও ফেলে রাখা জমিতে গাছ লাগানো হবে। উপকূলীয় দক্ষিণ অঞ্চলকে জলবায়ুর অভিঘাত থেকে রক্ষায় এ ধরনের কর্মসূচি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।