ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে রাখা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ডিএনসিসির এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো নগরীর ফুটপাতগুলোকে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে রাখায় পথচারীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। বিশেষ করে ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ফুটপাত দখলের কারণে হাঁটার মতো জায়গা ছিল না। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কঠোর অবস্থান ডিএনসিসির
ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তিনি বলেন, 'ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার কোনো সুযোগ নেই। যারা ফুটপাত দখল করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
এই অভিযানে ডিএনসিসির পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অংশ নিচ্ছে। তারা ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা করছেন, এর ফলে নগরীর চলাচল ব্যবস্থার উন্নতি হবে।
তবে কিছু ব্যবসায়ী এই অভিযানের বিরোধিতা করছেন। তারা বলছেন, ফুটপাত দখল করে তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন এবং হঠাৎ করে উচ্ছেদের ফলে তাদের জীবিকা সংকটে পড়বে। ডিএনসিসি অবশ্য তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগ নগরীর ফুটপাত পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।



