কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে এক ব্যতিক্রমী ছাগল এখন এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আরাম বিছানা ছাড়া ঘুমায় না ছাগলটি। খাওয়া-দাওয়া তো আছেই, সেই সঙ্গে প্রতিদিন করনো হয় শ্যাম্পু দিয়ে গোসল। তারপর বেলীফুলের তেল দেওয়া হয় তার গায়ে। মালিকের ভাষ্য, এমন আদর যত্নের পর তার চলাফেরাতেও যেন এসেছে নবাবী ভাব। তাই শখ করে তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’।
দুই বছরের যত্নে ১০৪ কেজি
কোরবানি ঈদকে ঘিরে আলোচনায় আসা ১০৪ কেজি ওজনের এই বিশেষ ছাগলটির মালিক হাদিস মিয়া। তিনি জানান, দুই বছর আগে দুই মাস বয়সী ছাগলটি ২১ হাজার টাকায় কিনেছিলেন তিনি। বর্তমানে এর ওজন হয়েছে ১০৪ কেজি। ভুট্টাপাতা, কাঁঠালপাতা, বটপাতা, জগডুমুরপাতা, বননাল্লা, শেওড়াপাতা, কাঁচা ঘাস ও দানাদার খাবার খাইয়ে ছাগলটিকে বড় করেছেন। নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানোর পর শরীরে বেলিফুল নারকেল তেলও মাখানো হয়। রাতে মাচার ওপর কম্বল বিছিয়ে ঘুমাতে দেওয়া হয় এটিকে।
প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠ খাসি
হাদিস মিয়ার দাবি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে ‘যমুনাপাড়ি’ জাতের ছাগলটি শ্রেষ্ঠ খাসি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। এ জন্য তিনি নগদ অর্থ ও সনদও পেয়েছেন। এবার কোরবানির ঈদে ছাগলটি লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করতে চান।
উৎসুক জনতার ভিড়
এদিকে হাদিস মিয়ার প্রতিবেশীরা জানান, প্রতিদিন ছাগলটিকে ঘিরে হাদিস মিয়ার বাড়ির উঠানে জমে উৎসুক জনতার ভিড়। আশপাশের এলাকা থেকে অনেকেই একনজর ছাগলটি দেখতে আসেন। কেউ কেউ আবার ছাগলটির সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন। স্থানীয় সমাজকর্মী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের চোখের সামনেই হাদিস মিয়ার ছাগলটি বড় হয়েছে। তিনি সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে ছাগলটিকে লালন–পালন করেছেন। ছাগলটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি বেশ শান্ত স্বভাবের। প্রতিদিন অনেক মানুষ এটি দেখতে আসেন। আমরা চাই, হাদিস মিয়া তার পরিশ্রমের উপযুক্ত মূল্য পান।



