কাদাপানিতে কোরবানির পশুর হাট, ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ
কাদাপানিতে কোরবানির পশুর হাট, ক্রেতাদের দুর্ভোগ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার খোঁচাবাড়ি পশুর হাটে কাদাপানিতে দাঁড়িয়ে কোরবানির পশু বেচাকেনা করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, কোনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দৌলতপুর সোলেমান খান বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে বসা হাটটি সোমবার রাতের বৃষ্টিতে কাদাপানিতে পরিণত হয়েছে।

হাটে প্রবেশেই ভোগান্তি

ক্রেতা-বিক্রেতাদের জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে হাটে ঢুকতে হচ্ছে। কেউ কেউ গরু-ছাগল টেনে নিতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন। অনেকের পা প্রায় এক ফুট পর্যন্ত কাদায় ডুবে যাচ্ছে। শহরের আশ্রমপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মনিরুল হুদা কোরবানির গরু কিনতে এসে হাটের মুখে কাদাপানি দেখে ভেতরে যেতে চাচ্ছিলেন না। পরে পলিথিন পায়ে জড়িয়ে ঢুকে কাদামাটি মেখে ফিরে আসেন। তিনি বলেন, ‘এভাবে গরু কেনা সম্ভব!’

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ

সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের নরেশ রায়ের পায়ের কিছু অংশ কাদায় ডুবে আছে। তিনি বলেন, ‘সরকার খালি আমাদের টাকা নেয়। আমাদের দুঃখ-কষ্ট দেখে না। হাটে ঢুকতে গেলে আগে হাটের বাইরে স্যান্ডেল রেখে আসতে হয়। কাদাপানিতে দাঁড়িয়ে বেচাকেনা করে পায়ে ঘা ধরছে।’ ভূল্লী উপজেলার মাটিগাড়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন দুটি গরু নিয়ে কাদাপানিতে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘এমন কষ্ট করে গরু বেচা যায়? দুর্গন্ধ, সারাটা দিন কাদার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজস্ব আদায় কিন্তু উন্নয়ন নেই

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোঁচাবাড়ি হাট পশু কেনাবেচার জন্য প্রসিদ্ধ। সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার হাট বসে। রাজস্ব আদায়ের হিসাবে এটি জেলার অন্যতম বড় পশুর হাট। হাটের ইজারাদার রবিউল ইসলাম বলেন, এ বছর এক কোটি ২৫ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়, কাদায় চারপাশ একাকার থাকে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা কমে আসছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নীতিমালা অনুযায়ী উন্নয়ন না হওয়া

স্থানীয় ব্যবসায়ী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব আয়ের একটি অংশ হাট উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা। ২০১১ সালের ১ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা নীতিমালা অনুযায়ী, হাট ইজারার ১৫ শতাংশ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। এ অর্থ দিয়ে নর্দমা, রাস্তা, ছাউনি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ চোখে পড়ে না।’

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি হলে পশুর হাটে পানি জমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি হচ্ছে, এটা সত্য। কোরবানির মৌসুমে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তবে পরে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভা করে পানিনিষ্কাশন, নালা, গণশৌচাগারসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।’ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পশুর হাটটির কিছু অংশ বিদ্যালয়ের। এ কারণে স্থায়ীভাবে উন্নয়নকাজ সম্ভব হচ্ছে না।’