ঈদুল আজহায় পশু পরিবহন ও কোরবানিতে আইন মেনে চলার নির্দেশ
ঈদুল আজহায় পশু পরিবহন ও কোরবানিতে আইন মেনে চলার নির্দেশ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু পরিবহন ও কোরবানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালায় পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত এবং নিরাপদ পরিবহনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আইন অমান্য করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধানও আছে।

চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি। বিপরীতে চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার। সে হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখের বেশি পশু অতিরিক্ত রয়েছে। এ অবস্থায় ঈদকে সামনে রেখে বিপুলসংখ্যক পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাকের গাদাগাদি এড়ানো এবং পশুর ওপর নিষ্ঠুরতা বন্ধে ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২১’ এবং ‘প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯’-এ স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কোরবানির মানবিক ও স্বাস্থ্যকর নিয়ম

পশু কোরবানির ক্ষেত্রে বেশ কিছু মানবিক ও স্বাস্থ্যকর নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়েছে। বিধিমালার ৩ নম্বরে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই এক পশুর সামনে অন্য পশু জবাই করা যাবে না। জবাইয়ের আগে পশুকে অন্তত ছয় ঘণ্টা বিশ্রামে রাখতে হবে। উত্তেজিত বা আতঙ্কিত অবস্থায় কোনো পশু জবাই করা নিষিদ্ধ। এছাড়া পশুর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো বা অঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। জবাইয়ের আগে প্রাণিচিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোরও নির্দেশনা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পশু পরিবহনের নির্দিষ্ট নিয়ম

পশু পরিবহনের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। একটি ট্রাকে অতিরিক্ত পশু তোলা যাবে না। প্রতিটি পশুর দেহের চওড়ার তুলনায় উভয় পাশে অন্তত ১৫ সেন্টিমিটার এবং মাথা ও লেজের গোড়া থেকে অন্তত ৩০ সেন্টিমিটার ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে, যাতে তারা সহজে শ্বাস নিতে পারে। এছাড়াও টানা ১০০ কিলোমিটার বা ৩ ঘণ্টার বেশি যাতায়াতের পথ হলে বিরতি করা বাধ্যতামূলক। পশুবাহী যানবাহনের চালকের কাছে একটি তথ্য কার্ড থাকতে হবে, যেখানে মালিকের নাম-ঠিকানা ছাড়াও পশুর সংখ্যা এবং গন্তব্য লেখা থাকবে।

র‍্যাম্প ব্যবহার ও অন্যান্য নির্দেশনা

আইন অনুযায়ী, ট্রাকে পশু ওঠানো বা নামানোর সময় র‍্যাম্প ব্যবহার করতে হবে। টেনেহিঁচড়ে নামানো বা লাফ দিতে বাধ্য করা যাবে না। পশুবাহী গাড়ির মেঝে হতে হবে সমতল ও নিরাপদ। একই গাড়িতে ভিন্ন প্রজাতির পশু একসঙ্গে পরিবহনও নিষিদ্ধ।

আইন অমান্য করলে শাস্তি

‘প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯’ অনুযায়ী, পশুকে অমানবিক অবস্থায় রাখা ‘অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য। আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী, পশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের অপরাধ প্রমাণিত হলে অনধিক ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই অপরাধ পুনরায় করলে শাস্তির মাত্রা বেড়ে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।