আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করার একটি বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। কৃষি খাতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, পতিত জমি আবাদযোগ্য করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির অগ্রগতি অন্তত ৫০ শতাংশের বেশি বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা।
পটভূমি ও লক্ষ্য
একসময় দেশের গ্রামাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান প্রাণশক্তি ছিল নদী ও খাল। সেগুলো সেচের পানি সরবরাহ করতো, মাছ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করতো এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে জলপথ যোগাযোগও বজায় রাখতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার খাল ভরাট হয়ে গেছে, অনেকগুলো দখল হয়ে গেছে, কিংবা নাব্য হারিয়েছে। ফলে কৃষি উৎপাদন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ জীবিকার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই বাস্তবতার মধ্যেই একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়।
নির্বাচনি প্রচারণার অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে শুরু হয় খাল কাটা কর্মসূচি। এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু খাল পুনঃখনন করা নয়; বরং দেশের ঐতিহ্যবাহী পানিব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করে খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং গ্রামীণ জীবিকার শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করা।
প্রথম ধাপের লক্ষ্যমাত্রা
প্রথম পর্যায়ে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খননকাজ চলমান রয়েছে। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সরকারের চারটি প্রধান সংস্থা প্রকল্পগুলোর আওতায় প্রথম ধাপে ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শুরু করেছে। আসন্ন বর্ষার আগেই খালের উৎস থেকে নদী পর্যন্ত পানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা। তথ্য অনুযায়ী, সরকারের ১০০ দিনে কর্মসূচির অগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি।
গাজীপুরে জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত তিন খালের খননকাজ চলছে
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত তিনটি খাল খনন কাজ চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এই খননকাজ হচ্ছে। উপজেলার রতনপুর রেলসেতু হতে সুরিচালা ও মকসবিল হয়ে তুরাগ নদী পর্যন্ত খাল খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ৪৭০ টাকা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ফুলবাড়িয়ায় গোয়ালিয়া নদী থেকে শিমুলিয়াপাড়া পর্যন্ত খাল খনন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৪০ টাকা। খাল পুনঃখনন শুরু হওয়ায় এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে জানান স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা।
জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত শ্রীপুর পৌরসভার ছাপিলাপাড়া গ্রামে চৌক্কার খাল (লবলং খালের শাখা) খননকাজ শুরু হয়েছে। গত মার্চ মাসে পানিসম্পদমন্ত্রী পরিদর্শন করে খালটির খননকাজ শুরু হয়। ১৯৭৮-৭৯ সালে জিয়াউর রহমান নিজে কোদাল হাতে শ্রমিকদের গম দিয়ে এই খাল খননের কাজ শুরু করেছিলেন।
মহানগরীর গাছা এলাকার খালটিকে গাছা খাল, টঙ্গী খাল বা নিমতলী খালও বলা হয়। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশ রক্ষায় টঙ্গী-গাছা এলাকার গাছা খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। মার্চ মাসে এটির উদ্বোধন করা হয়। ৮৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গাছা খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খননের ফলে স্থানীয় কৃষি এবং পরিবেশের উন্নতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ লাঘব হবে। খালের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ১২ দশমিক ০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীন এই খালটি গাছা এলাকা থেকে উত্তরখাইলকুর বাঁকা সেতু, মইরান সেতু, বগারটেক সেতু, শুকুন্দিবাগ, গাজীপুরা, বনমালা, হায়দ্রাবাদ ও নিমতলী হয়ে তুরাগে গিয়ে মিশেছে। একযোগে তিনটি খালের পুনঃখনন কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ।
ফরিদপুরে চার খাল খননে ব্যয় ৫ কোটি ৭৮ লাখ
ফরিদপুর জেলায় ১৬টি খাল খনন প্রকল্পের মধ্যে বর্তমানে দুটি উপজেলায় চারটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ১৬ মার্চ কাজ শুরু হয়। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় খাল চারটি খনন করা হচ্ছে। সদরপুর উপজেলায় দুটি খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দরিকৃষ্ণপুর খাল পুনঃখননের কাজ চলছে প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ টাকা। আরেকটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সদরপুর উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কামরুন নাহার এ তথ্য জানান।
অন্যদিকে ভাঙ্গা উপজেলায় চলমান রয়েছে দুটি খাল খনন প্রকল্প। ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এসব খাল খননকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম।
ভাঙ্গা উপজেলার চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীফাবাদ হ্যালন ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন খাল খারদিয়া হয়ে শাহজাহান শেখের বাড়ি হয়ে কুমার নদী পর্যন্ত পুনঃখনন। এ ছাড়া ঘারুয়া ইউনিয়নের রশিবপুরা থেকে মকরমপট্টি পর্যন্ত খাল পুনঃখনন এবং মানিকদাহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা পর্যন্ত খাল খননকাজও চলমান রয়েছে। অগ্রগতি প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং নৌ-চলাচলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সুফল মিলবে।’
নোয়াখালীতে অগ্রগতি ৫০ শতাংশ
নোয়াখালী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজী জানান, সদর উপজেলা পরিষদ থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। যদিও খালগুলো খনন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও অর্থ ছাড় দেওয়া হয়নি। তবে সদর পশ্চিমাঞ্চলে মোট ২৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় এসব কাজ করা হচ্ছে। ২৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।
অন্যদিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়ন ও কবিরহাট উপজেলার পেটকাটা খাল পুনঃখনন কাজ করছে বিএডিসি। পেটকাটা খালটির ৭ কিলোমিটার নোয়াখালী সদর ও ৩ কিলোমিটার কবিরহাট উপজেলায় অবস্থিত। এটি পুনঃখননের মাধ্যমে ১০ কিলোমিটার দূরে নোয়াখালী খালের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। খালটির পুনঃখনন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬০ টাকা। বিএডিসি নোয়াখালীর তত্ত্বাবধানে খালটি পুনঃখননের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিপ্লব সিন্ডিকেট বাস্তবায়ন করছে।
বিএডিসির নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী হুসাইন মুহাম্মদ খালিদুজ্জামান বলেন, ‘পেটকাটা খালের পুনঃখননের প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি অংশটুকুও দ্রুত শেষ হবে।’
ময়মনসিংহে অগ্রগতি কম
জেলার আট উপজেলায় ১১টি খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশের মতো ময়মনসিংহ জেলার খাল খনন উদ্বোধন করেন। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পুরোদমে কাজ শুরু করা হয় এপ্রিল মাসের শেষের দিকে।
এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম বলেন, ‘বরাদ্দ পাওয়ার পর ময়মনসিংহ জেলার আট উপজেলার ১১টি খাল খননের কাজ পুরোদমে শুরু হয়। এখন পর্যন্ত গড়ে ২০ শতাংশ কাজ হয়েছে। তবে বৃষ্টি এবং বিভিন্ন খালে বোরো ধান থাকায় খননের কাজে কিছুটা ধীরগতি হয়েছে। কর্মসূচিটি অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি অংশ হিসেবে ৫০ শতাংশ শ্রমিক কাজ করবে এবং বাকি ৫০ শতাংশ মেশিন দিয়ে কাজ করানোর কথা আছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে।’
কুড়িগ্রামে অগ্রগতি ১৫ শতাংশ
কুড়িগ্রামের পাঁচ উপজেলায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তবে বর্তমানে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রতিবেদন মোতাবেক, শুধু রৌমারী উপজেলায় ৭০ শতাংশ খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্য উপজেলাগুলোর খননকাজ উল্লেখ করার মতো অগ্রগতি হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে অতিবৃষ্টির কারণে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। শুরুর পর ভারী বৃষ্টিপাতে খালগুলোতে পানি জমে থাকায় খননকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বুকিয়া খালের খননকাজ মাত্র ১০ শতাংশ করার পর বন্ধ হয়ে যায়। কুড়িগ্রাম সদরের আরাজি পলাশবাড়ী মৌজার দাসেরহাট ছড়া এবং রাজারহাটের নাখেন্দার খালের খননকাজ হয়েছে মাত্র দশমিক ২০ শতাংশ। সেটির খননকাজও বন্ধ রয়েছে। উলিপুর উপজেলায় খননকাজের অগ্রগতি শূন্য।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কার্যালয়ের সর্বশেষ ১৪ মে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারী বর্ষণে খালে পানি ভরাট হওয়ায় বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। পানি না কমায় পুনরায় কাজ শুরু করা যায়নি।
রংপুরে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ
রংপুরের আট উপজেলায় নয়টি খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলার রমাকান্ত খালটি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এ ছাড়ায় জেলায় আরও আটটি খালের খননকাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া।
নগরীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামাসুন্দরী খালের খননকাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে শুরু হয়। গত ১৫ দিন ধরে বৃষ্টির কারণে খালে পানি থাকায় আপাতত খননকাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী আবুল মাকসুদ।
কুমিল্লায় অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ
কুমিল্লায় ৩৫ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার খননকাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন
রাজশাহী জেলায় খাল খনন কর্মসূচির প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জেলার খাল খনন কার্যক্রমের অগ্রগতি বর্তমানে ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, অর্থাৎ আমরা প্রায় ৫০ শতাংশ অর্জন করেছি।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘রাজশাহী জেলায় ১৬টি খাল খননের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি), বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রকল্প এলজিইডি এবং দুটি প্রকল্প বিএমডিএ বাস্তবায়ন করছে।’
সিলেটে অগ্রগতি ৫০ শতাংশের বেশি
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে চারটি এবং জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আটটি খাল খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২ মে বাসিয়া নদী খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, বাসিয়া নদী খনন প্রকল্পের টেন্ডার এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। শিগগিরই ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হবে। আর নগরীর হযরত বুরহান উদ্দিন মাজার সংলগ্ন কুশিখাল খননের সমীক্ষা চলছে। এর বাইরে সুরমা-কুশিয়ারা নদী ১৬টি পয়েন্টে এবং সারি-গোয়াইনঘাট নদীর পাঁচটি পয়েন্টে ড্রেজিংয়ের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলার আট উপজেলায় ১০টি খাল খনন করা হচ্ছে। বালাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুরে কর্মসূচি চলছে। বন্যায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কাজ করা যাচ্ছে না ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলায়।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুস কুদ্দুস বুলবুল বলেন, ‘বালাগঞ্জে ৬৫ শতাংশ এবং কোম্পানীগঞ্জে ৭৫ শতাংশ খাল খননের কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ চলমান আছে। বৃষ্টির পানি কমে গেলে তিনটি উপজেলায় খাল খননের কাজ শুরু করা হবে।’
বরিশালে কার্যক্রম শুরু হয়নি
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, বরিশাল জেলার ১০০টি খালের ৩০৩ কিলোমিটার খনন করতে হবে। ৬৫ কিলোমিটার খাল খরচের জন্য একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যেখানে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ১৫১ কোটি টাকা। বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পরই খাল খনন করা শুরু করা হবে। এখনও কার্যক্রম শুরু হয়নি।
খুলনা অঞ্চলে ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের খুলনা-বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. জামাল ফারুক বলেন, ‘খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় ৬৫টি খালের ১৩৫ কিলোমিটারের খননকাজ চলছে। প্রতিটি ৪৫ কিলোমিটার করে খাল খননের আওতায় আছে। খুলনায় ১৬টি, সাতক্ষীরার ২৪টি ও বাগেরহাটের ২৫টি খাল এই তালিকায় আছে। ১৩৫ কিলোমিটার খননের জন্য ১ হাজার ৮৯৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৪৫ কিলোমিটারের জন্য ৬৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ইতোমধ্যে গড়ে খালগুলোর ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, ‘ডুমুরিয়া ও দিঘলিয়ার পাঁচটি খালের খননকাজ এগিয়ে চলছে। খালগুলো ৪ দশমিক ৭৮৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার খননের আওতায় এসেছে। ইতোমধ্যে ডুমুরিয়ার কানাইডাঙ্গা খালের ৭৫ শতাংশ, ষষ্ঠীতলা খালের ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, টিয়াবুনিয়া খালের ৮২ দশমিক ৩৫ শতাংশ, বালাইঝাকি সেখবাড়ি খালের ৪৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ও দিঘলিয়ার কামারগাতি খালের ৯৩ দশমিক ০২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।’



