ঈদুল আজহায় রাজধানীর পশুর হাটে গো-খাদ্যের অস্থায়ী বাজার জমে উঠছে
ঈদুল আজহায় পশুর হাটে গো-খাদ্যের বাজার জমে উঠছে

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে যেমন বাড়ছে কোরবানির পশুর আগমন, তেমনি হাটের আশপাশে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে গো-খাদ্যের অস্থায়ী ও মৌসুমি বাজারও। রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটের প্রবেশমুখ ও আশপাশের রাস্তায় অস্থায়ীভাবে বসেছে গো-খাদ্যের হরেক রকম দোকান। এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা ঘাস, শুকনো খড়, ভুসি, খৈল, কুঁড়া, ভুট্টা ভাঙা ও কাঁঠালপাতাসহ নানা ধরনের পশুখাদ্য। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পশুর কেনাবেচা পুরোদমে শুরু না হওয়ায় গো-খাদ্যের বাজার এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি।

হাটের চিত্র ও বেপারীদের প্রস্তুতি

শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর পোস্তগোলা শ্মশানঘাট পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে গরুর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গো-খাদ্যও নিয়ে এসেছেন বেপারীরা। অনেকে গরুর আবাসের পাশেই খড়ের স্তূপ করে রেখেছেন, কেউবা কাঁচা ঘাস কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গা থেকে গরু নিয়ে আসা বেপারী মো. রানা বলেন, 'ঈদের দিন পর্যন্ত গরুকে খাওয়ানোর জন্য আমরা বাড়ি থেকেই পর্যাপ্ত খাবার সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। যদি কোনও কারণে কম পড়ে যায়, তখন হাটের আশপাশের দোকান থেকে কিনে খাওয়াবো।' ফরিদপুর থেকে আসা আরেক বেপারী মিজানুর হাওলাদার বলেন, 'হাটের গরমে দীর্ঘ জার্নি করে আসা গরু সুস্থ রাখতে নিয়মিত খাবার ও পানি দিতে হয়। তাই খড়, ভুসি আর ঘাস ছাড়া হাটে টেকা সম্ভব না।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেমন চলছে বেচাকেনা ও দামের চিত্র

হাটের আশপাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলোতে এখন সীমিত আকারে বেচাকেনা হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, মূলত যারা আগাম কোরবানি পশু কিনছেন এবং হাটের বেপারীরাই এখনকার ক্রেতা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, গো-খাদ্যের বিক্রিও তত বাড়বে। পোস্তগোলা হাটের পাশে অস্থায়ী দোকান দেওয়া ব্যবসায়ী আমিনুল বলেন, 'এখন প্রতিদিনই কিছু কিছু বেচাকেনা হচ্ছে। শেষ দিকে ক্রেতা যখন বাড়বে, তখন দম ফেলার ফুসরত থাকবে না।' পরিবহন ব্যয় ও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় এবার গো-খাদ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি বলে জানান বিক্রেতারা। হাটে বর্তমানে প্রতি আঁটি কাঁচা ঘাস বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়। শুকনো খড়ের ছোট আঁটি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, প্রতি কেজি ভুসি ৭০ টাকা, খৈল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কুঁড়া ৪০ টাকা এবং কাঁঠালপাতার একটি বস্তা ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা

পরিবহন ব্যয় বাড়ায় এবার গো-খাদ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি বলেও জানান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পঞ্চগড় থেকে খড় নিয়ে আসা মাহবুব মিয়া বলেন, 'প্রতিবছর এই কোরবানি ঈদের সময় ঢাকায় এসে খড় বিক্রি করি। এবার দুই ট্রাক খড় এনেছি। তবে এখনও মূল বেচাবিক্রি শুরু হয়নি।' রংপুর থেকে আসা সুমন বেপারী জানান, কয়েক বছর ধরেই তিনি এই মৌসুমি ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, 'ঢাকা শহরে তো সহজে খড় বা ঘাস পাওয়া যায় না। যারা কোরবানির জন্য ২-৩ দিন আগে গরু কেনেন, তারা সুস্থ রাখার জন্য কয়েক দিনের খড়-ঘাস একবারে কিনে রাখেন। সাধারণত ঈদের আগের ৫-৬ দিন এই ব্যবসা খুব ভালো চলে।' বরিশাল থেকে আসা আবু সাঈদ হাটের পাশে অস্থায়ীভাবে ভুসি, কুঁড়া, খৈল ও পাঁচমিশালী গরুর খাবার বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, 'আমাদের কাছ থেকে মূলত গৃহস্থ বা সাধারণ ক্রেতারা গরু কেনার পর খাবার কিনে নেন। কোরবানির তিন-চার দিন আগে থেকে বিক্রি ব্যাপক হারে বাড়বে।'

অস্থায়ী কর্মসংস্থান ও সুবিধা

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর পশুর হাটগুলোকে ঘিরে প্রতিবছর মাত্র কয়েক দিনের জন্য এই মৌসুমি গো-খাদ্যের বাজার গড়ে ওঠে। এতে একদিকে যেমন প্রান্তিক মানুষের জন্য এক সপ্তাহের একটি অস্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হয়, অপরদিকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বেপারী ও স্থানীয় ক্রেতারাও সহজেই পশুর তাজা খাবার সংগ্রহ করতে পারেন। তবে হাটে আসা অনেক অভিজ্ঞ বেপারী জানিয়েছেন, বাড়তি খরচের হাত থেকে বাঁচতে তারা গরুর জন্য পর্যাপ্ত খাবার নিজেদের সঙ্গে করেই নিয়ে এসেছেন। শেষ সময়ে অনেক বেপারী বিক্রি না হওয়া অবশিষ্ট খাবার হাটেই ফেলে রেখে চলে যান।