পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ইতোমধ্যে পুরোপুরি জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাটগুলো। শেষ মুহূর্তের কেনাবেচায় মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ।
সরবরাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের তুলনায় এবার উপজেলায় কুরবানির পশুর সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত বছর যেখানে প্রস্তুতকৃত পশুর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার, সেখানে এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজারে।
১৫টি হাট বসেছে
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার রামগঞ্জ উপজেলায় দুটি স্থায়ী হাটসহ মোট ১৫টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও জমজমাট কেনাবেচা চলছে রামগঞ্জ বাজার, পানিওয়ালা বাজার, গাজীপুর বাজার এবং নোয়াগাঁও বাজারে।
বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মতামত
পশু বিক্রেতা শাহ আলম জানান, প্রথমদিকে বাজারগুলো বসলেও বেচাকেনা কিছুটা কম ছিল। সাধারণত ক্রেতারা বাজারের দরদাম বুঝতে একটু সময় নেন। তাছাড়া বাড়িতে নিয়ে আগেভাগে কুরবানির পশু লালন-পালনের অসুবিধার কারণেও অনেকে একদম শেষ মুহূর্তে এসে পশু ক্রয় করেন। তবে দিন যত যাচ্ছে ক্রেতাদের ভিড় ও বিক্রি ততই বাড়ছে। বাজারে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন থেকে রামগঞ্জ বাজারে গরু কিনতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, "বাজার দেখতে এসেছি, এখনো কিনিনি। পছন্দ এবং বাজেটের মধ্যে ব্যাটে-বলে মিলে গেলে আজই নিয়ে নেব। না হলে আরও দুই-একদিন দেখব, এখনো তো সময় আছে। তবে গতবারের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি বলেই মনে হচ্ছে।"
একই বাজারের আরেক ক্রেতা ব্যবসায়ী আবদুল মোতালেব জানান, হাটে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি ও ছোট সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিক্রেতারা দাম বলছেন বেশি, তবে আশা করছি দুই-এক দিনের মধ্যে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
তদারকি ও সেবা
সীমিত লোকবল সত্ত্বেও কুরবানির পশুর হাটগুলোতে কঠোর তদারকি বজায় রেখেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। হাটে অসুস্থ বা ক্ষতিকর হরমোনযুক্ত পশু শনাক্তকরণ এবং খামারিদের জরুরি সেবা দিতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ কমিটি।
রামগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রনী কুমার দে জানান, পুরো রামগঞ্জে আমাদের প্রাণিসম্পদ অফিসের কঠোর তদারকি চলছে। লোকবল সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা খামারি ও ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে ভেটেরিনারি সার্জন ডা. জসীম উদ্দিনকে প্রধান করে একটি 'ইমার্জেন্সি তদারকি কমিটি' ও মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। হাটে পশুর যেকোনো সমস্যায় আমাদের টিম তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে এবং খামারিদের পাশে রয়েছে।
শেষ মুহূর্তে কোনো সংকট নেই
সার্বিকভাবে এবার রামগঞ্জে পশুর জোগান চাহিদার চেয়ে বেশি থাকায় শেষ মুহূর্তে কোনো সংকট হবে না এবং শান্তিপূর্ণভাবেই কেনাবেচা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।



