লোকসানে বন্ধ হচ্ছে ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন
লোকসানে বন্ধ ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অব্যাহত লোকসানের কারণে এবার আর ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে না। গত কয়েক বছর ধরে আম মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন এবং কুরবানির ঈদ উপলক্ষে রাজশাহী অঞ্চল থেকে ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালানো হতো। কিন্তু চাষি ও খামারিদের অনীহায় ট্রেন দুটি পরিচালনার খরচ ওঠেনি।

লোকসানের পরিমাণ

রেলওয়ের বাণিজ্যিক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন থেকে আয় হয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা। অন্যদিকে জ্বালানি তেল, স্টাফদের বেতন ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে দুই কোটি টাকার বেশি। ফলে মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।

বছরভিত্তিক আয়-ব্যয়

  • ২০২০: আয় ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৬ টাকা, ব্যয় ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
  • ২০২১: আয় ২৬ লাখ ৩০ হাজার ৯২৮ টাকা, ব্যয় ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
  • ২০২২: আয় ২ লাখ ১২ হাজার ১৭৪ টাকা, ব্যয় ১২ লাখ ৪০ টাকা।
  • ২০২৩: আয় ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫০২ টাকা, ব্যয় ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
  • ২০২৪: শুধু ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন চালু ছিল।

চাষি ও খামারিদের দৃষ্টিভঙ্গি

চাষি ও খামারিরা জানান, বাগান বা বাড়ি থেকে স্টেশন এবং স্টেশন থেকে গন্তব্যে পণ্য পৌঁছাতে বাড়তি ঝক্কি ও খরচ হয়। ট্রেনের ভাড়া কম হলেও পরবর্তী ধাপগুলোতে ব্যয় বেশি হওয়ায় তারা সড়ক পথকেই বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করেন। ফলে ট্রেনগুলো প্রায় ফাঁকাই চলাচল করত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যবসায়ী নেতার বক্তব্য

রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন, রেলওয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় লাভ-লোকসান বিবেচনা না করে চাষি ও খামারিদের স্বার্থে ট্রেন চালু করা হয়েছিল। তবে উদ্যোগটি পরিকল্পনায় ঘাটতি ছিল। চালুর আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না হওয়ায় সফল হয়নি। তিনি ট্রেন বন্ধের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেলওয়ের অবস্থান

পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, চাষি ও খামারিদের আগ্রহের অভাবে ট্রেন পরিচালনার খরচ ওঠেনি। তাই ম্যাঙ্গো ও ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন না চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে পুনরায় চালুর চিন্তা করা হবে।