ঈদুল আজহায় বাণিজ্যিক খামারের পশুর বিক্রি বেড়েছে
ঈদুল আজহায় বাণিজ্যিক খামারের পশুর বিক্রি বেড়েছে

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে কোরবানির হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। এবার প্রান্তিক খামারিদের পাশাপাশি প্রায় আড়াই হাজার বাণিজ্যিক খামারের পশুও হাটগুলোতে বিক্রি হবে। এসব খামারের বেশিরভাগ পশু রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোর হাটে বিক্রি হবে। পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি চলছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ধামর এলাকার খামারি এম এ মাকসুদ রাসেল। তাঁর 'রাবিবা অ্যাগ্রো' খামারে এবার ৪৫টি গরু মোটাতাজা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২৮টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিটি গরু তিন লাখ থেকে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করে তিনি সফল হয়েছেন।

খামারি রাসেলের সাফল্য

এক থেকে তিন বছর ধরে যত্নে লালন-পালন করা এসব পশুর পেছনে খাবার, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের খরচ আগের চেয়ে বেশি হলেও শেষ পর্যন্ত ভালো লাভে বিক্রি করতে পেরেছেন বলে জানান মাকসুদ রাসেল। আট বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তিনি। তাঁর খামারে বর্তমানে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তিনি আরও জানান, তাঁর খামার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হৃষ্টপুষ্টকরণ শ্রেণিতে নিবন্ধিত।

সারাদেশে খামারের সংখ্যা

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে নিবন্ধিত গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টকরণ খামার রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। দুগ্ধ খামার রয়েছে প্রায় ৮২ হাজার। ছাগলের খামার রয়েছে প্রায় ছয় হাজার। ভেড়ার খামার রয়েছে প্রায় চার হাজার এবং মহিষের খামার রয়েছে ১৫০টি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বড় শিল্প গ্রুপের অংশগ্রহণ

ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের পাশাপাশি বড় শিল্প গ্রুপগুলোও গবাদিপশু লালন-পালনে বিনিয়োগ করছে। উদাহরণস্বরূপ, নাবিল গ্রুপ এবার কোরবানির জন্য প্রাণী প্রস্তুত করেছে। নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এবার তারা কোরবানির হাটে প্রায় ২৫০টি গবাদিপশু সরবরাহ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদেশি পশু প্রবেশ রোধে সরকারের পদক্ষেপ

বিদেশ থেকে পশু আসা বন্ধের পর থেকেই দেশে বাণিজ্যিক গবাদিপশুর খামার গড়ে উঠেছে। এতে বড় ভূমিকা রাখছে বাণিজ্যিক খামারগুলো। সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, অতীতে সীমান্তঘেঁষা কিছু হাটের মাধ্যমে বিদেশি পশু প্রবেশ করায় দেশীয় খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ পরিস্থিতি বন্ধে সীমান্ত এলাকায় হাট না বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ১৮ মে বলেছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং স্থানীয় উৎপাদনব্যবস্থাকে টেকসই করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মতামত

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের খামার শাখার উপপরিচালক মো. শরিফুল হক বলেন, যাঁরা আধুনিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে গবাদিপশু লালন-পালন করছেন তাঁরা লাভবান হচ্ছেন। তাঁরা কোরবানিতে বড় অবদান রাখছেন। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উদ্যোক্তারা গবাদিপশু লালন-পালনে যুক্ত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশে এখন আধুনিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু লালন-পালন লাভজনক। ফলে অনেকের এখানে কর্মসংস্থান হচ্ছে। এছাড়া এখানে অনেক উপখাত তৈরি হচ্ছে, সেখানেও কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।