দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমে উঠেছে লিচুর বাজার, দামে হতাশ নিম্ন আয়ের ক্রেতারা
ফুলবাড়ীতে জমে উঠেছে লিচুর বাজার, দামে হতাশ ক্রেতারা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমে উঠেছে লিচুর বাজার। বিভিন্ন জাতের লিচুর ডালা সাজিয়ে ফুলবাড়ী পৌরশহরের নিমতলা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। তবে চলতি মৌসুমে লিচুর দাম বেশি হওয়ায় নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় লিচুর বিক্রি

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের নিমতলা মোড়, রেলঘুমটি, টিটির মোড়, কালীবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় টুকরি ও ঝুড়িতে লিচু সাজিয়ে ব্যবসায়ীরা বেচাকেনা চালাচ্ছেন। সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এসব স্থানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে বাজারে বোম্বাই, বেদেনা ও মাদ্রাজি জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছে।

দাম ও প্রকারভেদ

আকার ও মানভেদে ১০০টি মাদ্রাজি লিচু ২৩০–২৫০ টাকায়, বোম্বাই লিচু ২৫০–২৭৫ টাকায় এবং বেদেনা জাতের লিচু ৫৮০–৬০০ টাকা শ’দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চায়না থ্রি জাতের লিচু এখনও বাজারে আসেনি। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চায়না থ্রি লিচু বাজারে আসতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যবসায়ীদের মতামত

স্থানীয় লিচু ব্যবসায়ী শাহজাহান, কুরবান আলী, মন্টু চন্দ্র রায়, মেহেদুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে লিচু পাঠানো হচ্ছে। ফলে চাহিদা বাড়ায় দামও ঊর্ধ্বমুখী।

ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া

ক্রেতা তারাপদ রায় বলেন, গত বছর যে বোম্বাই লিচু ১৫০ টাকায় কিনেছি, এবার তা ২৭৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দামের কারণে বেদেনা জাতের লিচু কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আরেক ক্রেতা ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি রিপন বাবু জানান, তিনি ৬৩ টাকায় ২৫টি মাদ্রাজি লিচু কিনে বাড়ি ফিরছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুরিয়ার সার্ভিসে লিচু পাঠানো

এদিকে প্রতিদিন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রচুর লিচু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয়রা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছেও লিচু পাঠাচ্ছেন। সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের স্থানীয় এজেন্ট নাজির হোসেন বলেন, লিচু মৌসুমে পার্সেলের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তাই অনেক সময় অতিরিক্ত গাড়ি চালাতে হয়।

কৃষি বিভাগের তথ্য

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন জানান, এ বছর লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নে ৬৮ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টরে প্রায় ৪ দশমিক ৭১ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।