সিরাজগঞ্জে সদর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকায় এক খামারির গোয়াল ঘর থেকে ৬টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। কোরবানিকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনায় খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন মো. হাসান শেখের গোয়াল ঘর থেকে ৬টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
খামারিদের মাঝে আতঙ্ক
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদিপশু চুরির ঘটনায় স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী রাতের নিরাপত্তা জোরদার ও পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। এর আগে সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও শাহজাদপুরে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী খামারি জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছিল। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও গরুগুলো গোয়াল ঘরে বেঁধে রেখে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো একসময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র বাড়ির বাইরে থেকে ঘরের ছিটকানি লাগিয়ে দেয়, যাতে পরিবারের সদস্যরা বের হতে না পারেন। পরে তারা গোয়াল ঘরে থাকা ৬টি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা গোয়াল ঘর খালি দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজনকে জানানো হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
গরুর মালিক মো. হাসান শেখ জানান, ঈদ উপলক্ষে বিক্রির জন্য গরুগুলো প্রস্তুত করা হয়েছিল। গরুগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ টাকা। হাসান শেখের স্ত্রী চম্পা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কোরবানির ঈদের লাইগা গরুগুলা রেডি কইরা রাখছিলাম। চোরে বাইর থেইকা ঘরের ছিটকানি দিয়া তালা দিয়া গরুগুলা লইয়া গেছে। আমরা কিছুই টের পাই নাই। অহন আমরা পথে বইসা গেছি। অনেক কষ্ট কইরা গরুগুলা লালন-পালন করছি, সবই শেষ কইরা দিছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই গরুগুলাই বিক্রি কইরা সংসারের ঋণ শোধ আর পরিবারের খরচ চালানোর কথা আছিল। রাইতের মধ্যেই সব শেষ কইরা দিছে।’
পুলিশের পদক্ষেপ
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, পাইকপাড়া এলাকায় গরু চুরির একটি ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গরুগুলো উদ্ধারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সানতু বলেন, গরু চুরি রোধে জেলার প্রতিটি উপজেলায় পুলিশ পাহারা ও টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে এ বছর জেলায় ৬ লাখের বেশি গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।



