ঈদ ঘনিয়ে এলেও পাইকারশূন্য সাতমাইল পশুর হাট, দুশ্চিন্তায় খামারিরা
ঈদ ঘনিয়ে এলেও পাইকারশূন্য সাতমাইল পশুর হাট

কুরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় বাড়লেও দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সাতমাইল পশুর হাটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। হাটজুড়ে ছোট-বড় হাজার হাজার গরু থাকলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা কিংবা পাইকারদের আনাগোনা নেই। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা।

হাটে গরু থাকলেও নেই ক্রেতা

যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাতমাইল পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটের বিভিন্ন প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা রয়েছে দেশি ও বিভিন্ন জাতের গরু। অনেক খামারি সকাল থেকে গরু নিয়ে বসে থাকলেও আশানুরূপ বেচা-বিক্রি হয়নি বলছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিবছর ঈদের অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে থেকেই সাতমাইল হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে ট্রাকভর্তি গরু কিনে নিয়ে যান। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে জমে উঠত পুরো হাট। কিন্তু এবার আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও বেচা-বিক্রি নেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খামারিদের প্রতিক্রিয়া

হাটে গরু বিক্রি করতে আসা খামারি আব্দুল মালেক বলেন, সকাল থেকে বসে আছি, কয়েকজন দাম জিজ্ঞেস করে চলে গেছে। খাবারের খরচ বাড়ছে, কিন্তু গরুর দাম অনুযায়ী ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। আরেক বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, এবার হাটে গরু অনেক বেশি উঠেছে, কিন্তু পাইকার নেই। যারা আসছে তারা খুব কম দাম বলছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠবে না।

পাইকারদের অভিমত

অনেক ব্যবসায়ী মনে করছেন, এবার চৌগাছা পশুর হাটে পাইকারদের ভিড় বেশি হওয়ায় সাতমাইল হাটে সেই প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি গরুর দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পাইকাররা আগ্রহ হারাচ্ছেন। খুলনা থেকে আসা এক পাইকার বলেন, সাতমাইল হাটে গরুর দাম একটু বেশি চাওয়া হচ্ছে। তাই অনেকে অন্য হাটে চলে যাচ্ছে। চৌগাছায় তুলনামূলক কম দামে ভালো গরু পাওয়া যাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে খামারিরা বলছেন, খামারে খাবার, ওষুধ ও পরিচর্যার ব্যয় বাড়ায় বাধ্য হয়েই তারা বেশি দাম চাইছেন, তাছাড়া লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

স্থানীয়দের মতামত

স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে ধান কাটার মৌসুম চলায় গ্রামের অনেক মানুষ মাঠের কাজে ব্যস্ত থাকায় এখনও কুরবানির বাজার পুরোপুরি জমে ওঠেনি। ঈদের আরও কয়েকদিন বাকি থাকায় শেষ সময়ে বেচা-কেনা বাড়তে পারে বলেও আশা করছেন অনেকে।

উপজেলায় পশু প্রস্তুতি

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কুরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার গবাদিপশু। এরমধ্যে গরু রয়েছে ১৩ হাজার ১০০টি। বিপরীতে উপজেলায় চাহিদা রয়েছে ১২ হাজার ৭২৬টি পশুর, ফলে কুরবানির পশু নিয়ে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। সূত্র আরও জানায়, উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে মোট এক হাজার ১৩১টি পশু খামার রয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করা বড় খামারের সংখ্যা ১৫টি।

হাট পরিচালনার বক্তব্য

সাতমাইল পশুর হাটের পরিচালকের পক্ষে সোহেল আল মামুন বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এ পশুর হাটে পর্যাপ্ত গরু উঠেছে। তবে এখনও ক্রেতার চাপ বাড়েনি। ঈদের শেষ দিকে বেচা-কেনা বাড়বে বলে আশা করছি।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তপু কুমার সাহা বলেন, প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে হাটে বিক্রিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। গরুর গর্ভ পরীক্ষা, অসুস্থ পশুর চিকিৎসাসহ সার্বিক মনিটরিং চলছে। কৃত্রিমভাবে নিষিদ্ধ উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা পশু যাতে বাজারজাত না হয় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।