আশুলিয়াকে আধুনিক ও পরিকল্পিত অঞ্চলে রূপান্তরের লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নিজস্ব অর্থায়ন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সরকারি বাজেট ও কারিগরি সহায়তায় দেওয়ান বাড়ি–কাকাবো–দত্তপাড়া-ডিএসসি সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বুধবার (২০ মে) এই সড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনের উপস্থিতি
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ নাদির বিন আলী, প্রক্টর ড. শেখ মুহাম্মদ আল্লাইয়ার। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সড়কের গুরুত্ব ও প্রভাব
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সড়ক চালু হওয়ার ফলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, কর্মস্থল ও সেবাকেন্দ্রে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় সেবা খাতে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, 'এই সড়কের উন্নয়ন শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, এটি আশুলিয়ার মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিক্ষা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত করে।' তিনি আরও বলেন, 'সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অঞ্চলের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।'
স্মার্ট সিটির লক্ষ্য
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান জানান, 'ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই নগরায়ণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্মার্ট কমিউনিটি গড়ে তোলা।' তিনি আরও বলেন, 'শিক্ষা, প্রযুক্তি ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে একত্র করে একটি অঞ্চলকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।'
এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য
ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির কার্যক্রম জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই নগরায়ণের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকলে আশুলিয়া বাংলাদেশের স্মার্ট, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই নগর উন্নয়নের একটি কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি ধারাবাহিকভাবে আশুলিয়াকে একটি আধুনিক, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক অঞ্চলে রূপান্তরের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



