আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভোলার চরফ্যাশনে কুরবানির পশু প্রস্তুতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। উপজেলার ১৮৬টি গরুর খামার, ৮২টি মহিষের খামার ও ২৪টি ছাগলের খামার থেকে মোট ২৫ হাজার ৯১টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে; যা উপজেলার চাহিদা ২২ হাজার ৪৬৬টির চেয়ে প্রায় দুই হাজার ৬০০ বেশি।
পশুর হাটে ব্যস্ত সময়
সরেজমিন চরফ্যাশন সদর পশুর হাট, চেয়ারম্যান বাজার ও দুলারহাট পশুর হাটে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে খামারি ও ব্যাপারীরা গরু, মহিষ ও ছাগল কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দুলারহাট পশুর হাটে কুরবানির পশু কিনতে আসা কবির খান বলেন, বুধবার (২০ মে) দুলারহাট বাজারই সবচেয়ে বড় গরুর হাট। গতবার যে গরু এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার তা ৮০-৯০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে এবং অন্যান্য জেলা থেকে গরু আসলে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
খামার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা
চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ উপজেলায় ১৮৬টি গরুর খামার, ৮২টি মহিষের খামার ও ২৪টি ছাগলের খামার রয়েছে। এসব খামারের গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি বিভাগের সাতটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম কাজ করছে।
উপজেলার দুলারহাট থানার নীলকমল ইউনিয়নের গরুর খামারি মো. বিল্লাল বলেন, এ বছর কুরবানির জন্য আমার খামারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত করেছি। এগুলো স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে খাদ্য খৈল, কুঁড়া, ভুসি ও খড়সহ অন্যান্য পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আশানুরূপ দাম পেলে আমরা লাভবান হতে পারব।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বক্তব্য
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাজন আলী বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সাতটি মেডিকেল টিম গ্রামে গিয়ে গৃহস্থ ও খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ উপজেলায় দেশি জাতের গবাদিপশুর পরিমাণ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় কোরবানির চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু অন্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।



