নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলায় একটি ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হঠাৎ করে আসা এই ঝড়ে দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বোরো ধানের খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়। জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও সামান্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার রাতে ঝড়ের তাণ্ডব
শনিবার দিবাগত রাতে একের পর এক তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছোট চাঁদপুর, বড় চাঁদপুর, হরিরামপুর, মাহমুদপুর, চকজয়রাম, ঠুকনিপাড়া, নটুনহাট ও পুরাতন বাজার পালসা গ্রামের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সড়ক ও গাছপালার ক্ষতি
সর্দারপাড়া মোড়ে একটি বটগাছ উপড়ে পড়ায় প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত গাছটি সরিয়ে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরুদ্ধার করে। নাজিপুর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনেও একটি বিশাল বটগাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এছাড়া নাজিপুর সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বেশ কয়েকটি বড় গাছ উপড়ে যায়।
ঘরবাড়ির ক্ষতি
ছোট চাঁদপুরের শামসুল আলম জানান, তিনি যে টিনের ঘর তৈরি করছিলেন তা ঝড়ে ধসে পড়ে। নাজিপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪০০টি কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন
বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে যাওয়ায় ব্যাপক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টেলিফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রশাসনের তৎপরতা
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা সবাইকে চলমান প্রতিকূল আবহাওয়ায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।



