শেরপুরে ৩৩ মণ ওজনের ষাঁড় ‘বাংলার ডন’ সবার নজর কাড়ছে
শেরপুরে ৩৩ মণ ওজনের ষাঁড় ‘বাংলার ডন’ সবার নজর কাড়ছে

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি খামারে বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘বাংলার ডন’ সবার নজর কাড়ছে। সাদা-কালো গায়ের রং, দীর্ঘ দেহ ও শান্ত স্বভাবের কারণে সহজেই আলাদা করে চেনা যায় এই ষাঁড়টিকে। প্রতিদিনই নানা বয়সী মানুষ গরুটিকে দেখতে ভিড় করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন প্রায় ৩৩ মণ ওজনের এই ষাঁড়টি।

বাংলার ডনের আকার ও খাদ্যাভ্যাস

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গরুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট এবং উচ্চতা ছয় ফুট দুই ইঞ্চি। প্রতিদিন খাবার হিসেবে লাগে প্রায় ৪০ কেজি ঘাস, ১৫ কেজি খইলসহ নানা প্রকার ভুসি। এত বড় আকারের কারণে গরুটির জন্য আলাদা বড় শেড তৈরি করা হয়েছে। কয়েকজন কর্মী সার্বক্ষণিক পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন। দিনে দুই থেকে তিনবার গোসল করানো হয় এবং নির্দিষ্ট সময় মেনে খাবার দেওয়া হয়। পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন

খামারের ব্যবস্থাপক মিরাজ হোসেন বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। নিয়মিত পরিচর্যা ও পুষ্টিকর খাবারের কারণেই গরুটি এত বড় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজি এক হাজার টাকা ধরে গরুটির দাম ১৩ লাখ টাকার বেশি ধরা হচ্ছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খামারের শ্রমিকেরা জানান, বিশাল আকৃতির হলেও ‘বাংলার ডন’ স্বভাবে শান্ত। মাঝেমধ্যে অভিমান করলেও আদর পেলে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যের মতো করেই গরুটির যত্ন নেওয়া হয়েছে। ছোট থেকেই খাওয়া-দাওয়া ও চলাফেরায় নবাবি ভাব থাকায় গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘বাংলার ডন’।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দর্শনার্থীদের অভিমত

গরুটি দেখতে আসা আমির হোসেন বলেন, ‘গরুটি খুবই শান্ত। শুনেই দেখতে এসেছি। অনেক বড় গরু। ভাবসাবেও একটা নবাবি ভাব আছে। দেখে ভালো লেগেছে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরুটির ছবি দেখে খামারে এসেছিলেন সজীব মিয়া। তিনি বলেন, ‘ছবিতে বড় মনে হয়েছিল, কিন্তু সামনে এসে দেখি বাস্তবে আরও বড় ও আকর্ষণীয়। বাংলার ডন নামের স্বার্থকতা আছে।’

খামারের সার্বিক দায়িত্বে থাকা মনির হোসেন বলেন, নালিতাবাড়ীর আলিফ লাম অ্যাগ্রো খামারে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ৭০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে বাংলার ডন। আলাদা যত্নে গরুটি বড় হয়েছে। খাওয়া ও চালচলনে একটু ব্যতিক্রমী ভাব থাকায় ডনকে দেখতে মানুষ আসেন। ইতিমধ্যে অনলাইনে ৬৬টি গরু ঢাকার বাজারে বিক্রি করা হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ

নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু সায়েম বলেন, বর্তমানে মানুষ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা পশুর প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। ‘বাংলার ডন’কে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বড় করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকেও খামারিকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।