জামালপুরে ৩৩ মণ ওজনের গরু ‘জমিদার’, দাম ১৪ লাখ টাকা
জামালপুরে ৩৩ মণ ওজনের গরু ‘জমিদার’, দাম ১৪ লাখ

জামালপুরের মেলান্দহে কোরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে প্রায় ৩৩ মণ ওজনের গরু ‘জমিদার’। ‘জমিদার’ বলে ডাক দিলেই সাড়া দেয় গরুটি। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে গরুটি। তাই একে দেখতে ভিড় জমান অনেকে। ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছে এর মালিক। তাই ‘জমিদার’কে নেওয়া হবে রাজধানীতে।

জমিদারের পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য

জেলার গরু প্রেমীদের মুখে মুখে একটাই নাম ‘জমিদার’। এক টনেরও বেশি ওজনের বিশাল দেহী এই গরুটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে নানা বয়সি মানুষ। রাজকীয় গঠন, আলাদা যত্ন আর ব্যতিক্রমী আচরণের কারণে কোরবানির হাটে ওঠার আগেই এলাকায় তারকাখ্যাতি পেয়েছে গরুটি। ওজন প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি অর্থাৎ এক টনেরও বেশি। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতা আর ১১ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশালাকৃতির এই গরুর নাম ‘জমিদার’। আকার-আকৃতি আর রাজকীয় গঠনের কারণে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে গরুটি।

জমিদারের খাবার ও যত্ন

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বগা নাংলা এলাকার খামারি রফিকুল ইসলামের খামারেই বেড়ে উঠেছে ফ্রিজিয়ান জাতের এই বিশাল গরুটি। শুক্রবার সকালে খামার ঘুরে দেখা যায়, আকার-আকৃতিতে বিশাল ‘জমিদার’-এর জীবনযাপনও যেন একেবারে রাজকীয়। খামারি রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, ‘জমিদার’-এর খাবারের পেছনে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হয়। তাজা খাবার ছাড়া মুখে নেয় না কিছুই, সব সময়ই লাগে টাটকা খাবার। এ কারণেই গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চার বছর আগে গোয়ালঘরেই জন্ম হয়েছিল তার। ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মতো করে লালন-পালন করা হয়েছে। এখন অবস্থা এমন যে, গরুটিকে গোয়ালঘর থেকে বের করতে হলে ভাঙতে হবে ঘরের দেওয়াল। রফিকুল ইসলামের চোখে-মুখে এখন স্বপ্ন আর পরিশ্রমের গল্প। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই গরুটার পেছনে ১ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হয়। খাবারের তালিকায় থাকে কলা, হাঁসের ডিম, দেশি ঘাস, ভুট্টা আর গমের ভুসি। নিজের সন্তানের মতো করেই যত্ন নিই, নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোসলও করাই। গত বছর ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম উঠেছিল, তবুও বিক্রি করিনি। মনে হয়েছিল, আরো একটু বড় হোক, আরো সুন্দর হোক। এতদিনের কষ্টের একটা ভালো মূল্য যেন পাই। এবার যদি ভালো দাম পাই, তাহলে গরুটাকে বিক্রি করে দেব।’

পরিবারের আবেগ ও স্বপ্ন

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা বেগমের কণ্ঠে ছিল আবেগের ছোঁয়া। তিনি বলেন, ‘সন্তানের মতো করেই গরুটিকে বড় করেছি। পরিবারের সবাই মিলে দিন-রাত তার যত্ন নিয়েছি। অনেক কষ্ট করে লালন-পালন করেছি। এবার যদি ভালো দামে বিক্রি করতে পারি, তাহলে সেই টাকা দিয়ে আমাদের একটা ভালো ঘর হবে-এটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন বলেন, ‘এমন বিশাল দেহের গরু আগে কখনো এলাকার মানুষ দেখেনি। গরুটি লালন-পালন করেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি গরিব মানুষ। কষ্ট করেই লালন-পালন করেছেন। একটু বেশি দামে বিক্রি করতে পারলে তার পরিবার ভালো থাকতে পারবে।’

স্কুলছাত্র জিসান আহম্মেদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এর আগে এত বড় গরু কেউ কখনো দেখেনি। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ‘জমিদার’কে দেখতে আসছে। আমরা এতদিন শুধু বড় গরুর গল্পই শুনেছি, কিন্তু এবার নিজের চোখে দেখলাম। এত বিশাল আর সুন্দর গরু সামনে থেকে দেখলে সত্যিই অনেক ভালো লাগে।’

প্রাণিসম্পদ বিভাগের মতামত

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ টি এম হাবিবুর রহমান বললেন, ‘ছোট খামারিরাও এখন বড় আকৃতির গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে অনলাইনে পশু বিক্রির প্ল্যাটফরম চালু রয়েছে। এছাড়া জেলায় বিভিন্ন পশুর হাটও রয়েছে।’