বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। গত বছর এই হার ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বেকারত্বের হার বেড়েছে ০ দশমিক ৫ শতাংশ।
বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণ
বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মহামারীর পরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতির কারণে বেকারত্ব বেড়েছে। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি, ফলে চাকরি হারিয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে পোশাক শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে।
তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বেশি
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এই হার আরও বেশি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ।
নারী-পুরুষের বৈষম্য
নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার পুরুষদের তুলনায় বেশি। নারীদের বেকারত্বের হার ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের মধ্যে তা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। কর্মজগতে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও কম বলে বিবিএস জানিয়েছে।
বিবিএসের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, "বেকারত্ব কমানোর জন্য সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নে সময় লাগছে। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারলে বেকারত্ব কমবে।"
গ্রাম ও শহরের পার্থক্য
গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে শহরাঞ্চলে তা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। শহরাঞ্চলে বেশি লোক চাকরি খোঁজার কারণে এই হার বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের পদক্ষেপ
সরকার বেকারত্ব কমাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগের জন্য ঋণ, এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, "বেকারত্ব কমানোর জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে বাজারের চাহিদার সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।"



