দুটি দাবিতে কুষ্টিয়ায় বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের মারাত্মক ভোগান্তি
দুটি দাবিতে কুষ্টিয়া জেলা থেকে সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহনশ্রমিকরা। এই কর্মবিরতির ফলে স্থানীয় যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন, বিশেষ করে আন্তঃজেলা রুটগুলোতে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
কর্মবিরতির বিস্তারিত ও প্রভাব
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে কুষ্টিয়ার পরিবহন মালিক গ্রুপ ও মালিক সমিতির যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। এই পদক্ষেপের ফলে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর এবং কুষ্টিয়া-প্রাগপুর রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়াও, কুষ্টিয়া-খুলনা-যশোর, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া-বরিশাল, কুষ্টিয়া-রাজশাহী, কুষ্টিয়া-পাবনা-সিরাজগঞ্জসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটে মালিক গ্রুপ ও মালিক সমিতির কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে, ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে বলে জানা গেছে।
শ্রমিক ইউনিয়নের বক্তব্য ও দাবিসমূহ
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতির ডাক দেয় শ্রমিক ইউনিয়ন। কুষ্টিয়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুল হক বলেন, ‘বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সঙ্গে কুষ্টিয়া-খুলনা-যশোর রুটে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের বাসও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অথচ আমাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না। দুটি দাবিতে মালিক গ্রুপের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। গত ১৫ এপ্রিলের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু না মানায় শুক্রবার সকাল থেকে মালিক গ্রুপের বাস মিনিবাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে একমত হয়ে মালিক সমিতির শ্রমিকরাও বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন। এ জন্য কুষ্টিয়ার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।’
মালিক গ্রুপের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহ আগে বাস-মিনিবাস শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুটি দাবির কথা জানান। এই দাবিগুলো হলো:
- পরিবহনসংশ্লিষ্ট মালিক যেসব সুযোগ-সুবিধা নেন, শ্রমিকদেরও একই সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।
- শ্রমিক সংগঠনের নামে একটি বাস কুষ্টিয়া থেকে খুলনা রুটে চলাচল করার অনুমোদন দিতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এসব দাবি পূরণ না করায় তারা শুক্রবার সকাল থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে, তবে ঢাকাগামী বাস চলছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা খুবই সীমিত, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।



