পিএসসি সংস্কার জোটের ৫ দফা দাবি: রিপিট ক্যাডার সুপারিশ বন্ধ ও বিসিএসে পদ সংকোচন নীতি বাতিলের আহ্বান
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (পিএসসি) সংস্কার জোট রিপিট ক্যাডার সুপারিশ বন্ধ করাসহ পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবিগুলো উপস্থাপন করা হয়। সংস্কার জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেখানে দেশের শীর্ষ মেধাবীরা যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বসে আছে, সেখানে যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পদ ফাঁকা রাখার মতো হাস্যকর ঘটনা প্রায় প্রতিটি বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলেই ঘটছে।
সংস্কার জোটের পাঁচ দফা দাবি
সংস্কার জোটের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি নিম্নরূপ:
- রিপিট ক্যাডার সুপারিশ বন্ধ: বিসিএস চূড়ান্ত ফলাফলে রিপিট ক্যাডার সুপারিশ বন্ধ করা এবং ৪৫তম বিসিএস ও ৪৯তম বিসিএসে রিপিট সংশোধন করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করা।
- ভাইভার সুযোগ বৃদ্ধি: প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে ৫-৭ গুণ শিক্ষার্থীকে ভাইভা অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।
- ননক্যাডার নিয়োগ নিশ্চিতকরণ: জেনারেল বিসিএস প্রার্থীদের থেকে সর্বোচ্চ ননক্যাডার নিয়োগ নিশ্চিত করা।
- ননক্যাডার বিধি পুনর্বহাল: ২০২৩ সালের ননক্যাডার নিয়োগের বিধি বাতিল করে ২০১৪ সালের ননক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা পুনর্বহাল করা।
- লিখিত পরীক্ষার সময় বৃদ্ধি: বিসিএস লিখিত পরীক্ষার পূর্বে যৌক্তিক সময় দেওয়া।
পদ সংকোচন নীতির সমালোচনা
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার সংসদে বলছে সরকারি চাকরিতে লক্ষাধিক পদ ফাঁকা, অন্যদিকে বর্তমান পিএসসি ক্যাডার ও ননক্যাডারে পদ বাড়ানোর পরিবর্তে প্রতিটি ফলাফলে পদ সংকোচন নীতিতে হাঁটছে। যা নতুন বাংলাদেশে অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। এছাড়াও ৪৭তম বিসিএসে সার্কুলারে উল্লেখিত পদের চেয়েও কম প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করার মতো আজগুবি ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রার্থীদের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে ৪৫তম বিসিএসে আবেদনকারী প্রার্থী একরামুল হক বলেন, “৪৪তম বিসিএসে নিয়োগ বিধি সংশোধন করে রিপিট ক্যাডার বাদ দিয়ে তিনবার ফলাফল প্রকাশ করা হয়, অথচ একই পিএসসি ৪৫তম বিসিএসে রিপিট সংশোধনে অনীহা প্রকাশ করছে। যেখানে বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে চাকরির সংকট প্রকট, সেখানে একই প্রার্থীকে একই ক্যাডারে একাধিকবার সুপারিশ করা বেকার মেধাবীদের সাথে উপহাস নয় কি?”
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ মেধাবী তরুণদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং সরকারি চাকরির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সংস্কার জোটের দাবিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
বিসিএস পরীক্ষা বাংলাদেশের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপিট ক্যাডার সুপারিশ এবং পদ সংকোচন নীতির কারণে অনেক মেধাবী প্রার্থী বঞ্চিত হচ্ছেন। সংস্কার জোটের দাবিগুলো এই সমস্যা সমাধানে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
এছাড়াও, ভাইভার সুযোগ বৃদ্ধি এবং লিখিত পরীক্ষার সময় বাড়ানো প্রার্থীদের জন্য আরও ন্যায্য ও স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করবে। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে পিএসসির সংস্কার অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।



