বেনাপোল স্থলবন্দরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: লোহার শিটের নিচে চাপা পড়ে শ্রমিক নিহত
জেশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিক নিহত এবং আরেকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ট্রাক থেকে পণ্য আনলোড করার সময় এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় শ্রমিক সম্প্রদায়কে শোকস্তব্ধ করে তুলেছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনার সময় বেনাপোল স্থলবন্দরের টিটিআই মাঠে একটি ভারতীয় ট্রাক থেকে ভারী লোহার শিট বাংলাদেশি ট্রাকে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। আনলোডিং প্রক্রিয়ার মধ্যে হঠাৎ করেই লোহার শিটের নিচে চাপা পড়ে শাহজাহান আলী (৫৬) এবং শোয়েব আলী (৫২) নামে দুই শ্রমিক মারাত্মকভাবে আহত হন। সহকর্মী শ্রমিকরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
দুর্ভাগ্যবশত, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা শাহজাহান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে আনার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, আহত শোয়েব আলী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিচয়
নিহত শাহজাহান আলী বেনাপোল পোর্ট থানাধীন পাঠবাড়ি গ্রামের আফতাব উদ্দিন ভোনার ছেলে হিসেবে পরিচিত। আহত শোয়েব আলী একই থানাধীন সাদিপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার সন্তান। উভয়েই বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের ৮৯১ নম্বর সদস্য ছিলেন, যা এই দুর্ঘটনায় ইউনিয়নকেও গভীরভাবে আঘাত করেছে।
চিকিৎসক ও ইউনিয়ন নেতার বক্তব্য
শার্শা উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইব্রাহিম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত দুই আহত শ্রমিককে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায় শাহজাহান নামে একজন হাসপাতালে আনার পথেই মারা গেছেন।’
বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদ আলী এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানি করা মোটা ধরনের লোহার শিট ভারতীয় ট্রাক থেকে আনলোড করার সময় দুর্ঘটনাবশত দুই শ্রমিক চাপা পড়েন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন মারা যান। অন্যজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বন্দর কর্তৃপক্ষের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
দুর্ঘটনার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
এই ঘটনা বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রমিক ইউনিয়ন এখন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছে যে, ভারী পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সময় আরও কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলা হোক এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।
এই দুর্ঘটনা শুধুমাত্র একটি জীবনহানিই নয়, বরং এটি শ্রমিক নিরাপত্তা ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় গভীর চিন্তার উদ্রেক করেছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



