সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল দাবিতে কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল দাবিতে কর্মসূচি

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল দাবিতে কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন

আগামী অর্থবছরের বাজেটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোরালো দাবিতে রবিবার থেকে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ না হওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে, যা এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

কর্মসূচির ঘোষণা ও আহ্বায়কের বক্তব্য

শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১১ বছরের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন না ঘটলে বা আসন্ন বাজেটে পে-স্কেলের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা না হলে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবার ক্ষোভে ফেটে পড়তে পারেন।

অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার চাপ

আবদুল মালেক বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবার-পরিজন চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং প্রতি মাসেই ঋণের চাপ বাড়ছে। অনেক পরিবারের মধ্যে জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণাও তৈরি হয়েছে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “জীবন যখন অনিশ্চয়তায় ভোগে এবং পেটে খাবার থাকে না, তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি কর্মচারী ক্ষুধার্ত বাঘের মতো আচরণ করতে পারে, যা সামাল দেওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে যেতে পারে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন ও আয়কর দেওয়ার প্রস্তাব

আবদুল মালেক উল্লেখ করেন, “দেশের সার্বিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সরকার চাইলে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরু করতে পারে এবং তাতেও সরকারি চাকরিজীবীদের সম্মতি রয়েছে।” তিনি জানান, প্রয়োজনে ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী আয়কর দিতে প্রস্তুত, যাতে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায় এবং এই প্রক্রিয়া সহজতর হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন

সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আবদুল মালেক বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা ও সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি। পে স্কেল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি এবং এটি সম্পূর্ণ সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।”

এই কর্মসূচি সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী বাজেট প্রণয়নের সময়ে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।