কেরানীগঞ্জের কারখানা অগ্নিকাণ্ড: শ্রমমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন ও সহায়তা ঘোষণা
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়া একটি গ্যাস লাইট কারখানা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি শনিবার দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এ সময় মন্ত্রী এই মর্মান্তিক ঘটনায় হতাহত হওয়া শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন।
হাসপাতালে ছুটে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর
কারখানা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সরাসরি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ছুটে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন দগ্ধ শ্রমিকদের শয্যাপাশে কিছু সময় কাটিয়ে তাদের স্বাস্থ্য অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। তিনি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার পূর্ণ আশ্বাস দেন।
আর্থিক সহায়তা ও তদন্ত কমিটি গঠন
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, আহত ও বর্তমানে চিকিৎসাধীন প্রত্যেক শ্রমিককে চিকিৎসা খরচের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে মন্ত্রী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসককেও এই ঘটনার বিষয়ে পৃথক একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
শ্রমিক কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতি
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “শ্রমিকদের কল্যাণে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ভাগ্য উন্নয়নে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনও শ্রমিকের জীবন যেন অবহেলার কারণে বিপন্ন না হয়, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছি।”
মন্ত্রীর এই পরিদর্শনকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শনিবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।



