জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব
জ্বালানি সাশ্রয়ে ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম সুযোগ এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব আলোচনাধীন রয়েছে।

আটটি পদক্ষেপের মধ্যে প্রধান প্রস্তাবসমূহ

জ্বালানি সাশ্রয়ে কমপক্ষে আটটি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা
  • কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া
  • অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা বা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনা

এছাড়াও, বিদ্যুৎ খরচ কমানোর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকায় অনলাইন ক্লাসের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষা খাতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ

শিক্ষামন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় বলেন, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া, শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করার কথাও বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে, যা জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।" শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো এই পাবলিক পরীক্ষাগুলো পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুনে নেয়, যা সময় ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার পরই কোন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে তা নির্ধারণ করা হবে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের এই উদ্যোগগুলো বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে নেওয়া হচ্ছে, যা ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের কারণে তীব্র হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের এই পরিকল্পনা দেশের জ্বালানি খরচ কমানো এবং কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা বজায় রাখার মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করছে।