জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের ৬৪ জেলায় গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আংশিকভাবে হলেও ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা ২২ লাখ পরিবার তথা ২২ লাখ কর্মচারীর জোরালো দাবি।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি
আবদুল মালেক তার বিবৃতিতে বলেন, ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আসছে। প্রতিটি জেলায় কর্মরত সকল কর্মচারীকে তিনি এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অতীতের বঞ্চনা ও বর্তমান দাবি
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্মচারীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে ১৫ বছরের মধ্যে তিনটি টাইম স্কেল ও একটি সিলেকশন গ্রেড প্রথা বাতিল করেছে, যা ব্লক পোস্টধারী ও পদোন্নতি বঞ্চিতদের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। এর পরিবর্তে ১৬ বছরে দুইটি উচ্চতার গ্রেড প্রথা চালু করা হয়েছে, যা তিনি 'শুভঙ্করের ফাঁকি' বলে অভিহিত করেন।
আবদুল মালেক আরও উল্লেখ করেন, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে তৎকালীন সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন করেনি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে বেতন সমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নবম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে সুপারিশ প্রণয়ন করলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
সরকারের দায়িত্ব ও বাজেট বরাদ্দ
তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইচ্ছে করলে প্রজ্ঞাপন জারি করে পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারতো, কিন্তু দায় এড়ানোর জন্য এই বোঝা নির্বাচিত সরকারের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত সরকারকে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাজেট বরাদ্দ রেখে গেলেও তা নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ঊর্ধ্বগতির বাজারে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা মানবিক জীবনযাপন করতে সংগ্রাম করছে, যা নিয়ে কোনো সরকারেরই মাথাব্যথা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দাবি
আবদুল মালেক বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে স্কেলের বরাদ্দ রেখে তা আংশিকভাবে হলেও বাস্তবায়ন করার দাবি প্রতিটি কর্মচারীর। গণ কর্মচারীর এই প্রত্যাশা পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে দেওয়া ওয়াদা কতটুকু রক্ষা করেন বা কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই কর্মসূচি সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবিকে নতুন করে সামনে এনেছে এবং অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে তাদের সংগ্রামকে তুলে ধরছে। সমিতির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পে স্কেল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



