নোভারটিস বাংলাদেশের শ্রমিকদের মানববন্ধন: বকেয়া বেতন ও চাকরি পুনর্বহালের দাবি
সাত মাসের বকেয়া বেতন ও চাকরি পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন নোভারটিস বাংলাদেশের শ্রমিকেরা। আজ শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার।
শেয়ার হস্তান্তর ও শ্রমিকদের মামলা
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, দেড় বছর আগে ওষুধ কোম্পানি নোভারটিস বাংলাদেশ ৬০ শতাংশ শেয়ার রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন কোম্পানিটি স্থায়ী কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ ঘোষণা করে। তবে তা অপর্যাপ্ত ও বৈষম্যমূলক হওয়ায় মামলা করেন শ্রমিকেরা। আদালতের রায় শ্রমিকদের পক্ষে যায়। তা সত্ত্বেও ৪৬ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়।
আদালতের নির্দেশনা ও বাস্তবায়নহীনতা
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর স্থায়ী কর্মীদের জন্য কোম্পানি কিছু ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ ঘোষণা করে। তবে তা অপর্যাপ্ত ও বৈষম্যমূলক হওয়ায় শ্রমিকেরা ৮৪ মাসের ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। হাইকোর্ট শ্রমিকদের পক্ষে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এতে চাকরি বহাল রাখা এবং শেয়ার হস্তান্তর স্থগিত রাখার কথা বলা হয়।
শ্রমিকদের দাবি, পরবর্তী সময়ে চাকরি ও সুবিধা বহাল রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কারণ দর্শানো ছাড়াই ৪৬ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর একাধিক বৈঠকের পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে শ্রমিকদের পক্ষে ১২ দফা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসব সিদ্ধান্ত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।
চার দফা দাবি ও শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য
মানববন্ধনে শ্রমিকেরা চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো:
- মন্ত্রণালয়ের ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন
- বেআইনি ছাঁটাই বাতিল করে চাকরি পুনর্বহাল ও পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান
- বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ
- নোভারটিস ও রেডিয়েন্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা
মানববন্ধন কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, কোনো বিদেশি কোম্পানি শেয়ার হস্তান্তরের সময় দেশের শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে মানা হয়নি বলে শ্রমিকেরা অভিযোগ করছেন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির উদ্যোগ না নেওয়া উদ্বেগজনক এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আইনগত দায়িত্ব। নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকেরা ন্যায্য অধিকার আদায়ে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।



