চট্টগ্রামে ঈদের আগে কারখানা মালিকের পলায়ন, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
চট্টগ্রামে ঈদের আগে কারখানা মালিক পালালে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রামে ঈদের আগে কারখানা মালিকের পলায়ন, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রামে ঈদের ছুটি শুরুর আগের দিন একটি পোশাক কারখানায় মালিক বকেয়া বেতন না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে নগরীর অলঙ্কার মোড় এলাকায় ‘জায় ফ্যাশন’ কারখানায় এই ঘটনা ঘটে, যা এলাকার যান চলাচল ব্যাহত করে এবং ব্যাপক যানজট সৃষ্টি করে।

শ্রমিকদের ক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

প্রত্যক্ষদর্শী, শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার (১৮ মার্চ) থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগের দিন শেষ কর্মদিবস মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে দেখেন কারখানার মূল ফটকে তালা ঝুলছে। মালিক কিংবা কোনও কর্মকর্তাকে না পেয়ে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঈদের আগে বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও কোনও ঘোষণা ছাড়াই কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার সামনের সড়ক অবরোধ করেন, যার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও যানবাহন চালকরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন। আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, তাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে এবং ঈদের আগে সব পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কারখানায় তালা দিয়ে মালিক পালিয়ে যাওয়ায় তারা ঈদে বেতন-বোনাস না পেয়ে চরম সংকটে পড়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিল্প পুলিশের হস্তক্ষেপ ও আংশিক সমাধান

সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। শিল্প পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, এই কারখানায় প্রায় ১০০ শ্রমিক কাজ করেন এবং অতীতেও বেতন-ভাতা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মালিক জামাল হোসেন কারখানায় তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন, এমনকি তার বাসাও তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট বায়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের প্রায় ৫০ শতাংশ বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি অর্থ ঈদের পর পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে, এবং শ্রমিকরা আপাতত এই ব্যবস্থা মেনে নিয়েছেন।

শ্রমিকদের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ আন্দোলন

শ্রমিকরা তাদের দুর্দশার কথা ব্যক্ত করে বলেন, কীভাবে ঈদ করবেন তা বুঝতে পারছেন না তারা। তাদের দাবি, বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এই ঘটনা চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পে শ্রমিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উন্মোচিত করেছে এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।