আশুলিয়ায় কারখানা শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি
সাভারের আশুলিয়া জামগড়া এলাকায় ইউফোরিয়া এ্যাপারেলস্ নামে একটি পোশাক কারখানার শতাধিক শ্রমিক বকেয়া বেতনের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত কারখানার সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। শ্রমিকরা ঈদের আগেই তাদের সব পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কারখানা বন্ধ ও চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাস আগে কোনো ঘোষণা ছাড়াই কারখানাটি বন্ধ করে মালিক কর্তৃপক্ষ নোটিশ টাঙিয়ে দেয়। হঠাৎ কারখানা বন্ধ হওয়ায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। এসময় শ্রমিকদের চাপের মুখে শিল্প পুলিশের মধ্যস্থতায় শ্রম আইন অনুসারে তিন মাস ১৩ দিনের বেতন ও আনুষঙ্গিক পাওনার বিষয়ে একটি দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে।
এই চুক্তি অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে শ্রমিকদের সব পাওনা পর্যায়ক্রমে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা পরিশোধ করা হয়নি। শ্রমিকরা বারবার মালিক ও শিল্প পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও উল্টো ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
শ্রমিকদের আর্থিক সংকট ও হুঁশিয়ারি
শ্রমিকরা জানান, সামনে ঈদ উপলক্ষে তাদের আর্থিক সংকট তীব্র হয়েছে। দোকান বাকি, বাসার মালিকের তিন মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় তারা প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও, ছেলে-মেয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঈদের আগেই এই বিষয়ে সরকার, প্রশাসন ও বিজিএমইএর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
শিল্প পুলিশের বক্তব্য
শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে মালিকপক্ষ এখনো তা পরিশোধ করতে পারেনি। বর্তমানে শ্রমিকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে এবং তাদের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগে শ্রমিক ও মালিক পক্ষকে নিয়ে বৈঠক ও চুক্তি করা হয়েছিল, কিন্তু তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এই অবস্থায় শ্রমিকদের দাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় আশুলিয়া এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা মিলবে এবং পরিস্থিতি শান্ত হবে।



