তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ কমছে: নতুন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের চ্যালেঞ্জ
তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ কমছে

তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ কমছে: নতুন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) এই প্রবণতাকে শনাক্ত করে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো না পারা এবং চাকরি ছাড়াকে এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শনিবার (৭ মার্চ) বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই অবস্থার কথা তুলে ধরে এবং এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণে ইতিহাস ও বর্তমান চিত্র

বিকেএমইএ’র বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এক সময় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই হার কিছুটা কমে এসেছে। শিল্পে নতুন প্রযুক্তির আগমণ এবং স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) কারখানার বিস্তার এই হ্রাসের পেছনে একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। অনেক নারী শ্রমিক এখনও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে পারেননি, যা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে সীমিত করে দিচ্ছে।

এছাড়া, বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, কিছু নারী শ্রমিক চাকরি জীবনে সঞ্চিত অর্থ নিয়ে গ্রামে ফিরে গিয়ে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করেছেন, যা শিল্পে তাদের অংশগ্রহণ কমার আরেকটি কারণ। নতুন স্বয়ংক্রিয় কারখানাগুলোতে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায়, সামগ্রিকভাবে শিল্পে নারীদের উপস্থিতি হ্রাস পেয়েছে।

বিকেএমইএ’র প্রতিশ্রুতি ও প্রশিক্ষণ উদ্যোগ

বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সই করা বিবৃতিতে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “নারী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বিকেএমইএ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নারী শ্রমিকদের খাপ খাইয়ে নিতে এ খাতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি উল্লেখ করেন, “সরকারের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উদ্ভাবন কর্মসূচি (এসআইসিআইপি) এর আওতায় বিকেএমইএ সদস্য কারখানা ও স্বতন্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মোট দুই হাজার ১৪০ জন শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই নারী শ্রমিক।”

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও সরকারি সহায়তার আহ্বান

বিকেএমইএ সভাপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার যদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আরও সহায়তা প্রদান করে, তাহলে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে শ্রমিকদের অভিযোজন বাড়বে এবং তৈরি পোশাক শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ আবারও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে পাঠানো বিবৃতিতে তৈরি পোশাক খাতে নারী শ্রমিকদের অবদান স্মরণ করে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সংগঠনটির মতে, নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা হলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব:

  • নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা।
  • নারী শ্রমিকদের জন্য কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
  • সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানো।

এই উদ্যোগগুলি বাস্তবায়িত হলে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের ঐতিহাসিক ভূমিকা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং শিল্পের টেকসই উন্নয়নে তাদের অবদান আরও শক্তিশালী হবে।