গাজীপুরের পোশাক কারখানায় লে-অফ ঘোষণা, সাত শতাধিক শ্রমিক কর্মহীন
গাজীপুর মহানগরীর কলমেশ্বর এলাকায় অবস্থিত একটি পোশাক কারখানা হঠাৎ করেই লে-অফ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় সাত শতাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং তাঁরা বকেয়া বেতন পরিশোধসহ কর্মসংস্থান নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে এই পরিস্থিতি শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত চাপের সৃষ্টি করেছে।
লে-অফের নোটিশ ও শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি
আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে গাজীপুর নগরের গাছা থানার কলমেশ্বর এলাকায় অবস্থিত রাবাব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কারখানার সামনে লে-অফ সংক্রান্ত একটি নোটিশ টানানো হয়। নোটিশটি কারখানা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপকের (মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ) সই করা ছিল। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে ক্রেতাদের অর্ডারের বিপরীতে কাঁচামাল সংগ্রহে বিলম্ব ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অর্ডার কমেছে এবং অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে।
একই কারণে নতুন অর্ডার না পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, লে-অফ চলাকালে শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং এ সময় কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। তবে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরা এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকবেন।
লে-অফের নোটিশ টানানোর পরপরই শ্রমিকেরা কারখানা খোলার দাবিতে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে সাত শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন এবং চলতি মাসের ১৮ তারিখ পেরিয়ে গেলেও গত মাসের বেতন এখনো তাঁরা পাননি। সামনে রোজা ও ঈদ উপলক্ষে পরিবার নিয়ে সংসার চালানো নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় আছেন।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও চলমান প্রচেষ্টা
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্প পুলিশের পরিদর্শক বিকাশ চৌধুরী জানান, শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এবং এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে কারখানার ডিজিএম মোহাম্মদ শাহীনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
লে-অফের এই ঘোষণা গাজীপুরের পোশাক শিল্পে একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা দূর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ঘটনা পোশাক শিল্পের অন্যান্য কারখানার জন্যও একটি সতর্কবার্তা হতে পারে, যেখানে আর্থিক সংকট ও উৎপাদন সমস্যা ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
