সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি আমানতকারীদের জমার পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ১২৮০ কোটি সুইস ফ্রাঁ ছাড়িয়েছে। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৮০ কোটি ফ্রাঁ, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ বাড়ার কারণ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে অনেক বাংলাদেশি বৈধ ও অবৈধ পথে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করছেন। এছাড়া, দেশের ব্যাংকিং খাতে সুদের হার কম থাকায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সুইস ব্যাংককে বেছে নিচ্ছেন।
সরকারের পদক্ষেপ
বাংলাদেশ সরকার অর্থ পাচার রোধে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এর প্রভাব সীমিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ পাচার প্রতিরোধে কঠোর নীতিমালা জারি করলেও, সুইস ব্যাংকে জমা বাড়ার প্রবণতা থামানো যায়নি।
- সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট জমা: ১২৮০ কোটি ফ্রাঁ
- এক বছরে বৃদ্ধির হার: ৪১%
- পূর্ববর্তী বছরের জমা: ৯০৭ কোটি ফ্রাঁ
সুইস ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জমাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে বাংলাদেশের জমার পরিমাণ এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
সুইস ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ অর্থ সংরক্ষণের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুইস কর্তৃপক্ষ অর্থ পাচার ও কর ফাঁকি রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করায় জমার পরিমাণ কিছুটা কমেছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা উল্টো।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি না হলে অর্থ পাচার বন্ধ করা কঠিন হবে। তারা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।



