প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: কর-জিডিপি হার ২০৩৪ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত হবে
কর-জিডিপি হার ২০৩৪ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত হবে: তিতুমীর

রাজবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসকের সৌজন্যে গতকাল রোববার রাতে আয়োজিত ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি করব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দেন এবং আগামী বাজেটে কর-জিডিপির হার ২০৩৪ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পথনকশা থাকবে বলে জানান।

ফ্যাসিবাদী আমলের কর ব্যবস্থার সমালোচনা

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর তার বক্তব্যে বলেন, 'ফ্যাসিবাদী আমলে বাংলাদেশের কর-জিডিপির হার দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীতেও সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল। আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ করব। কর পরিহার, কর জালিয়াতি ও নানা ফন্দিফিকির বন্ধ করা হবে।' তিনি উল্লেখ করেন যে সরকার অপচয়, কর জালিয়াতি ও কর পরিহারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ও ন্যায্য ভিত্তির করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।

করব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ইতিমধ্যে করব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর বিভাগ, শুল্ক বিভাগ ও মূল্য সংযোজন কর—এই তিন খাতে তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সগুলো কাজ শুরু করেছে এবং আগামী বাজেটে কর-জিডিপির হার ২০৩৪ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ ও ঋণ কমানোর প্রতিশ্রুতি

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, 'বর্তমানে আমরা ঋণের ভারে ন্যুব্জ। এই পরিস্থিতি থেকে একদিন বেরিয়ে আসব। আমরা অভ্যন্তরীণ ঋণ আর করব না। পতিত সরকার ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দিয়ে গেছে।' তিনি দাবি করেন যে সরকার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়িয়ে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং বিদেশি উচ্চ সুদের ঋণ থেকে মুক্ত হয়ে সম্পদ সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা বলেন, 'আমাদের সব সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য সুবিধাগুলো অব্যাহত থাকবে এবং দিন দিন আরও বাড়বে। একই সঙ্গে আমাদের উন্নয়ন ব্যয় অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে।' তিনি অর্থের জোগান নিয়ে সংশয় প্রকাশকারীদের আশ্বস্ত করেন যে সরকারের পরিকল্পনা সঠিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়ার সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন:

  • সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম
  • রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ
  • রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার
  • পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ
  • জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী

এই অনুষ্ঠানটি রাজবাড়ী জেলায় সরকারি নীতির প্রচার ও স্থানীয় নেতাদের সাথে সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।