দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবহারবান্ধব করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, করদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং সেবা সহজ করতে প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বক্তব্য
রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীতে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর ফেরত প্রক্রিয়া উন্নত করা
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “কর ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে অতিরিক্ত পরিশোধিত কর দ্রুত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া উন্নত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ই-ট্যাক্স রিটার্ন ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াকে সহজ করবে এবং স্বচ্ছতা বাড়াবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার গঠনমূলক প্রস্তাব ও পরামর্শকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং একটি আধুনিক, কার্যকর কর কাঠামো গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়।”
আইসিএমএবির স্বাগত বক্তব্য
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএমএবির সেমিনার ও কনফারেন্স কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। তিনি অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে অংশীজনদের সমন্বিত মতামতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
আলোচনায় কর নীতির সংস্কার নিয়ে বক্তব্য দেন এনবিআরের সাবেক সদস্য (কর) রঞ্জন কুমার ভৌমিক। ভ্যাট নীতি ও অব্যাহতি সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন এনবিআরের প্রথম সচিব মশিউর রহমান। ট্যাক্স ভেরিফিকেশন সিস্টেমসহ (টিভিএস) বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা করেন এমএম অ্যান্ড কোং-এর প্রধান নির্বাহী মো. মহিমন।
সভাপতির বক্তব্য
সভাপতির বক্তব্যে আইসিএমএবির সভাপতি কাওসার আলম বলেন, “টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, করের আওতা সম্প্রসারণ, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।”
প্রাক-বাজেট এই আলোচনায় কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।



