টিন ছাড়া নয় চাকরি, ব্যবসা, ব্যাংকিং; ৪০ সেবায় বাধ্যতামূলক
টিন ছাড়া নয় চাকরি, ব্যবসা, ব্যাংকিং; ৪০ সেবায় বাধ্যতামূলক

বাংলাদেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিন (টিআইএন) এখন শুধু আয়কর দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই— বরং চাকরি, ব্যবসা, ব্যাংকিং, সম্পত্তি নিবন্ধন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক-সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। ফলে নাগরিক জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে টিন সার্টিফিকেট এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

টিনধারীর সংখ্যা ও আয়কর রিটার্ন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে টিনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ। তবে চলতি বছরে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ ব্যক্তি। টিন বা টিআইএন হলো করদাতার জন্য নির্ধারিত একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর। এর মাধ্যমে করদাতার আয়, কর পরিশোধ এবং আর্থিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এনবিআর।

৪০ ধরনের সেবায় টিন বাধ্যতামূলক

বর্তমানে প্রায় ৪০ ধরনের সেবা ও কার্যক্রমে টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনের তাগিদেই অনেক মানুষ টিন নিচ্ছেন। কারণ এটি ছাড়া এখন নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাকরি ও পেশাগত ক্ষেত্রে

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলে টিন থাকতে হয়। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক ও তদারকি পর্যায়ের কর্মীদের জন্যও টিন বাধ্যতামূলক। এছাড়া চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রেও টিন প্রয়োজন হয়।

ব্যবসা-বাণিজ্যে

ব্যবসা শুরু, ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়ন করতে টিন প্রয়োজন। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে এটি বাধ্যতামূলক। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং, পরিবেশক এজেন্সি, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ক্যাটারিং ও নিরাপত্তা সেবার মতো বিভিন্ন খাতেও টিনের প্রয়োজন হচ্ছে।

সম্পত্তি ও যানবাহন

জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধন, গাড়ির নিবন্ধন এবং যানবাহনের ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রেও টিন ছাড়া সেবা পাওয়া যাবে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিতে টিন বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণের ক্ষেত্রেও টিন সার্টিফিকেট প্রয়োজন হয়।

আমদানি-রফতানি

আমদানি-রফতানি ব্যবসায় ঋণপত্র (এলসি) খোলা, রফতানি নিবন্ধন সনদ গ্রহণ কিংবা ক্লিয়ারিং ও ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেও টিন থাকতে হয়।

সরকারি কাজ ও নির্বাচন

সরকারি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে অংশ নিতে টিন প্রয়োজন। এমনকি জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা কিংবা উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতেও টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অন্যান্য ক্ষেত্র

অভিজাত ক্লাবের সদস্য হওয়া, বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে কাজ করা, কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার হওয়ার ক্ষেত্রেও টিন প্রয়োজন হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সন্তান ভর্তি করাতেও অভিভাবকের টিন নম্বর চাওয়া হয়।

অনলাইনে টিন নিবন্ধন

এনবিআরের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজেই টিন নিবন্ধন করা যায়। কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করেই অল্প সময়ের মধ্যে টিন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা সম্ভব। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাগরিক ও আর্থিক কার্যক্রমে টিনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়াতে আগেভাগেই টিন নিবন্ধন করে রাখা প্রয়োজন।