ইউরোপে জেট ফুয়েল সংকট: আইইএ প্রধান সতর্ক করলেন, মাত্র ছয় সপ্তাহের জ্বালানি অবশিষ্ট
ইরানে চলমান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে থাকায় ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপের হয়তো ছয় সপ্তাহ কিংবা তার কিছু বেশি জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে শিগগিরই ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কা নিয়েও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব
আলজাজিরার খবরে বলা হয়, আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরোল এপির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে— যা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলছে। এই সংকট শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্বব্যাপী উড়োজাহাজ চলাচল ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ইউরোপের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই একটি বড় ধরনের ‘যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা’ তৈরি করছে ইউরোপীয় দেশগুলো। সম্প্রতি ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো একটি বিশাল আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে, যারা যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ করবে। তবে এই জোটে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত না করার চিন্তা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, এই মিশনটি হবে একটি ‘আন্তর্জাতিক রক্ষণাত্মক মিশন’। এতে কোনো ‘যুদ্ধরত পক্ষকে’ রাখা হবে না। এর অর্থ হলো—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরান এই জোটের অংশ হবে না। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ইউরোপের বিমান চলাচল ও অর্থনীতির উপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সমাধান না হলে বৈশ্বিক পরিবহন ও বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে।



