লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিদ্যুৎ সংকট: ১২ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিদ্যুৎ সংকট: ১২ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় গত তিন দিন ধরে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রোদ, বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমের মধ্যে প্রায় চার লাখ বাসিন্দা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। একটু বাতাস হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয়দের জন্য অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহের মারাত্মক ঘাটতি

উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫-৬ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণে পৌরশহরে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও জনবহুল ১০টি ইউনিয়নে ১২ ঘণ্টাই লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকালে বা দুপুরে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হলে বিকালে তা আসে না, আবার বিকালে দেওয়া হলে রাতের অনেকটা সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

হাসপাতাল ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে ক্ষতি

এই সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর। ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেনু পোনা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হায়দরগঞ্জ বাজারে এবং সদরের বিসিক শিল্পনগরীর হিমাগারে রাখা পণ্য ও বেঙ্গল সু-কারখানায় কয়েক শ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রাহকদের ক্ষোভ ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তাদের বিরক্তি প্রকাশ করছেন। পৌরসভার পশ্চিম কাঞ্চনপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর স্বপন পাটোয়ারী, ব্যবসায়ী দেলোয়ার ও গৃহিণী তাসলিমা খানম বলেন, "কতবার যে বিদ্যুৎ যায় আর আসে, হিসাব নেই। ভ্যাপসা গরমে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। শিশু ও বৃদ্ধদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। সময়মতো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও হয় না।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রায়পুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোশারফ হোসেন বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জানান, রায়পুরের পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুতের গ্রিডে সমস্যা এবং গাছপালা না কাটার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। তিনি বলেন, "প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৬-৭ মেগাওয়াট। চাহিদার কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় দিনে ও রাতে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি। মানুষের দুর্ভোগ হলেও আমাদের করার কিছুই নেই।"

পরিষেবা কাঠামো ও ভবিষ্যৎ উদ্বেগ

রায়পুরে মোট ১,৩১৮ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে, যার মাধ্যমে ৭৯,৯২২ আবাসিক ও ৭,৬৩৯ বাণিজ্যিক গ্রাহককে সেবা দেওয়া হয়। ১২টি ফিডের মাধ্যমে সঞ্চালন লাইন চালানো হচ্ছে এবং ৩০ জন লাইনম্যান প্রতিদিন গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকেন। তবে, রামগঞ্জ উপজেলা থেকে বিদ্যুতের গ্রিড আপডেট দিতে গত কয়েক বছর ধরে সরকারের কাছে আবেদন করলেও কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে মোশারফ হোসেন উল্লেখ করেন।

এই পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির মানুষদের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা স্বীকার করেন যে, এই সংকট সমাধানে তাদের হাতে তেমন কোনও উপায় নেই, যা স্থানীয় জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।