জ্বালানি তেল সংকটে নৌপথে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগ
জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই সংকটের কারণে পদ্মা, মহানন্দা ও করতোয়া নদীতে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকার স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গোদাগাড়ীতে নৌযান চলাচল বন্ধ, শিক্ষার্থী ও অসুস্থরা বিপাকে
গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে ডিজেলের সংকট চলছে। তেলের অভাবে অধিকাংশ নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের মতো এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘নৌকা না চলায় সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না। যে দুই-একটি নৌকা চলছে, তাতে তিলধারণের জায়গা নেই, ফলে আমাদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।’
চর আলাতুলী ঘাটেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে আম্বিয়া নামের এক নারী অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে শহরে যাওয়ার জন্য ভোরে ঘাটে এসে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চরের মানুষের জীবন নদীর ওপর নির্ভরশীল। তেলের অভাবে সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা এখন অসহায়।’ মাঝি আবু তালেবও জানান, তেলের অভাবে নৌকা চালানো সম্ভব হচ্ছে না, যা তাদের পরিবারকে না খেয়ে থাকার অবস্থায় ফেলেছে।
উল্লাপাড়ায় দড়ি টেনে নৌকা চালাচ্ছেন মাঝিরা
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া খেয়া ঘাটে জ্বালানি তেল সংকটের কারণে মাঝিরা এখন দড়ি বেঁধে হাতে টেনে নৌকা চালাচ্ছেন। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে, কিন্তু ডিজেলের অভাবে শ্যালো ইঞ্জিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মাঝি আব্দুল লতিফ, শহিদুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন জানান, প্রতিদিন নৌকা চালাতে তাদের ৩ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও তারা মাত্র ১ লিটার পাচ্ছেন, ফলে অর্ধেক দিনও নৌকা চালানো যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন হোসেন ও সাকিব হোসেন দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তেলের সরবরাহ বাড়ানো, যাতে এই ঘাটের স্বাভাবিক যাতায়াত পুনরায় চালু হতে পারে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও উদ্যোগ
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাদাত রত্ন জানান, নৌযানের জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, ‘বেতবাড়ী-পূর্ব সাতবাড়ীয়া ঘাট দিয়ে প্রচুর মানুষ যাতায়াত করে, তাই মাঝিদের কষ্ট লাঘব করতে সাধ্যমত সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
এই সংকট চলতে থাকলে চরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



