জ্বালানি তেল নিয়ে প্যানিক বায়িং বন্ধের আহ্বান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সতর্কতা
জ্বালানি তেল প্যানিক বায়িং বন্ধের আহ্বান, সতর্কতা

জ্বালানি তেল নিয়ে প্যানিক বায়িং বন্ধের জরুরি আহ্বান

জ্বালানি তেল নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা বা প্যানিক বায়িং চলতে থাকলে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।

প্যানিক বায়িংয়ের বাস্তব উদাহরণ ও সতর্কতা

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, একই বাইক বারবার তেল নিতে যাচ্ছে, তেল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপচে পড়ছে, এরকম নানান ঘটনা তো আসলে আছে। তিনি আরও যোগ করেন, আমি আবারও সবার প্রতি আহ্বান জানাব, আমাদের সংকট আছে কিন্তু আমরা যদি এ ধরনের প্যানিক বায়িং করতে থাকি, তাহলে এটি বড় সংকটে রূপ নেবে। এই অবস্থা চলতে থাকলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জ্বালানি তেলের দাম ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি যদি খারাপের দিকে যায়, তাহলে এর প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও সামগ্রিক অবস্থা অনিশ্চিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। যদিও এপ্রিল মাসে দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে, পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে ভবিষ্যতে সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি, প্রয়োজন হতে পারে; মানে এটি হবেই, এমন নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিশ্রুতি

স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, দেশে টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কিছু শিশু টিকার আওতার বাইরে থাকায় বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। দেশের একটি অংশের শিশু টিকার কাভারেজের আওতায় ছিল না। আমরা আবারও বলতে চাই, এটি পূর্বের একটি ব্যর্থতার ফল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, তা সত্ত্বেও শিশুদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও হাসপাতালগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে একসঙ্গে অনেক রোগীর গুরুতর সেবা প্রয়োজন হলে চাপ তৈরি হয়।

দায়িত্বশীলতা ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

স্বাস্থ্য খাতে সম্ভাব্য ব্যর্থতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বোপরি, ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যে জ্বালানি সংকট এড়াতে জনসাধারণের সহযোগিতা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।