জ্বালানি তেল সরবরাহে ঘাটতি নেই, জনশঙ্কাই প্রধান চ্যালেঞ্জ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, গত বছরের একই সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র (যুগ্ম সচিব) মনির হোসেন চৌধুরী ১৫ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও জনমনে তৈরি হওয়া শঙ্কাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় বাড়তি কেনা
মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী উল্লেখ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হতো, এখনো তা–ই দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়ে বেশি কিনছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বিজয় সরণির ট্রাস্ট পাম্পে আগে ৫০ থেকে ৫৪ হাজার লিটার অকটেন দেওয়া হলেও গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া হয়েছে ৮০ হাজার লিটারের বেশি।
অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত
সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানানো হয়। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ লাখ ৪২ হাজার ২০৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
- ডিজেল: ৩ লাখ ৬৬ হাজার ১ লিটার
- অকটেন: ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার
- পেট্রল: ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার
- ফার্নেস তেল: ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র আরও বলেন, গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ৯ হাজার ১১৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা হয়েছে, জরিমানা আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মজুত পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বাস
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র অকটেন ও পেট্রলের মজুত নিয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না। ডিজেলের ক্ষেত্রেও এপ্রিল ও মে মাসে সমস্যা দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশে বর্তমান মজুত পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
- ডিজেল: ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন
- অকটেন: ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন
- পেট্রল: ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন
- ফার্নেস তেল: ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন
- জেট ফুয়েল: ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন
মন্ত্রণালয় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, জ্বালানি তেল সরবরাহে ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।



