জ্বালানি তেলের সংকটে হানিফ পরিবহনের বাস মাঝপথে থেমে, যাত্রীদের ভোগান্তি
জ্বালানি তেল সংকটে হানিফ পরিবহনের বাস থেমে যাওয়া

জ্বালানি তেলের অভাবে হানিফ পরিবহনের বাস মাঝপথে থেমে যাওয়া

জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে হানিফ পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস মাঝপথে থেমে যাওয়ায় যাত্রীদের মারাত্মক ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। বাসটি সিলেট থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পৌঁছানোর পর জ্বালানি তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়, যা যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোকে ব্যাহত করেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে হানিফ পরিবহনের এই বাসটি কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বানুর বাজার এলাকায় বাসটি পৌঁছায়। কিন্তু এরপরই জ্বালানি তেল শেষ হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর বাসটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়।

সকাল আটটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ওপরেই বাসটি থেমে আছে। যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন বন্ধ বাসটিতে বসে রয়েছেন, আবার কয়েকজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে অন্য কোনো যানবাহনে ওঠার চেষ্টা করছেন। বাসচালকের সহকারী জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে আশপাশের ফিলিং স্টেশনে ঘুরছিলেন, কিন্তু এক ঘণ্টা পার হলেও তেলের কোনো ব্যবস্থা করা যায়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাত্রীদের বক্তব্য

যাত্রী ওবায়দুর রহমান জানান, তিনি কক্সবাজারের টেকনাফে যাওয়ার উদ্দেশে সিলেট থেকে বাসটিতে উঠেছিলেন। গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় বাসটি যাত্রা শুরু করে এবং পথে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে সারিতে অপেক্ষার পর জ্বালানি তেল নেওয়া হয়। ১০ লিটার বা ২০ লিটার করে তেল দেওয়া হয়েছিল, এবং ১০ লিটারের বেশি তেল পেতে দুটি ফিলিং স্টেশনে বাড়তি টাকাও দিতে হয়েছে চালককে। এরপরও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বাসের ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরেক যাত্রী মোবারক হোসেন বলেন, ‘সকাল ৯টায় কক্সবাজারে আমার পেশাগত একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। অথচ সীতাকুণ্ডেই আটটা বেজে গেল। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে আদৌ পারব কি না জানি না।’ এই ঘটনা তার মতো অনেক যাত্রীর জন্য গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

বাসচালকের প্রতিক্রিয়া

বাসচালক ওসমান গনি জানান, সিলেট থেকে কক্সবাজার যেতে তার বাসে ১৬০ লিটার জ্বালানি তেল লাগে। তিনি যাত্রা শুরু করেছেন মাত্র ৭০ লিটার তেল দিয়ে। পথে অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু মাত্র তিনটিতে সামান্য তেল পেয়েছেন। বাকি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল পাননি, যা বাসের ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার মূল কারণ। সীতাকুণ্ড থেকে কক্সবাজার যেতে তার আরও অন্তত ৬০ লিটার জ্বালানি তেল লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ওসমান গনি আরও বলেন, ‘কিছু যাত্রী চট্টগ্রামে নামার কথা ছিল। ওই যাত্রীদের কয়েকজনকে কিছু টাকাপয়সা দিয়ে লোকাল গাড়িতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। বাকি যাত্রীদের আমাদের কোম্পানির অন্য একটি গাড়িতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তেলের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।’

পরিস্থিতির মূল্যায়ন

এই ঘটনা জ্বালানি তেলের সংকট এবং পরিবহন খাতের চ্যালেঞ্জগুলিকে উন্মোচিত করেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার উন্নতি করা জরুরি। হানিফ পরিবহনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিকল্প পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো যায়।

সীতাকুণ্ড এলাকায় এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং এটি জ্বালানি তেলের মূল্য ও প্রাপ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা এবং যাত্রীরা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।