চট্টগ্রাম বন্দরে জেট ফুয়েল ও ডিজেলের নতুন চালান নিয়ে জাহাজ প্রবেশ
চট্টগ্রাম বন্দরে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েল নিয়ে 'এমটি গ্রেট প্রিন্সেস' নামক একটি জাহাজ প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার সকাল আটটায় এই জাহাজটি বন্দরের জেটিতে নোঙর করে। জাহাজটিতে প্রায় ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল রয়েছে, যা ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড সরবরাহ করেছে।
জেট ফুয়েলের মজুত ও চাহিদার অবস্থা
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে জেট ফুয়েলের মজুত ছিল প্রায় ২২ হাজার টন। এই পরিমাণ দিয়ে প্রায় ১৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় এখন মজুত আরও বেড়েছে। যদিও দেশে জেট ফুয়েলের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।
১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত জেট ফুয়েলের বিক্রি হয়েছে ২১ হাজার টন, যা দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৭৫৮ টন। গত বছরের একই সময়ে এই গড় বিক্রি ছিল প্রায় দেড় হাজার টন।
ডিজেল সরবরাহে নতুন জাহাজ আসছে
এদিকে, ডিজেল সরবরাহের জন্য আজ রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে আরও দুটি জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। 'এমটি টর্ম দামিনি' জাহাজে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল রয়েছে, যা ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড সরবরাহ করছে। একই সময়ে 'এমটি লুসিয়া সলিস' জাহাজে প্রায় ৩৫ হাজার টন ডিজেল আসছে, যার সরবরাহকারী সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া কোম্পানি।
দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেলের অংশ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৬৩ শতাংশ। পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব খাতেই এর ওপর নির্ভরতা ব্যাপক। বিপিসির তথ্য অনুসারে, চলতি এপ্রিল মাসে দেশে ডিজেলের মোট চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। এই চাহিদা মেটাতে মাসজুড়ে একাধিক চালান আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজেলের পূর্ববর্তী চালান ও বর্তমান অবস্থা
ইতিমধ্যে এপ্রিল মাসের শুরুতে ৩ তারিখে 'এমটি ইউয়ান জিং হে' জাহাজে ২৭ হাজার টন ডিজেল এসেছে। একই দিন দিবাগত রাত দুইটার দিকে 'এমটি শান গাং ফা জিয়ান' নামের আরেকটি জাহাজে আরও ৩৪ হাজার টন ডিজেল পৌঁছেছে। নতুন দুটি জাহাজ যুক্ত হলে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
তবে চাহিদার তুলনায় চাপ পুরোপুরি কাটেনি। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার টন, যা দৈনিক গড়ে ১১ হাজার ১৩৮ টন। বিপিসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত আরও তিন থেকে চার দিন বাড়বে।
বিপিসি চেয়ারম্যানের বক্তব্য
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে এবং সামনে আরও জাহাজ আসবে। চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।



