জ্বালানি সংকটে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের কৃচ্ছ্রসাধন: এপ্রিল-জুন মাসে সুবিধা নিচ্ছেন না
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জ্বালানি সুবিধা নিচ্ছেন না

জ্বালানি সংকটে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের কৃচ্ছ্রসাধন: এপ্রিল-জুন মাসে সুবিধা নিচ্ছেন না

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরকারি জ্বালানি সুবিধা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, তিনি এপ্রিল, মে ও জুন ২০২৬ মাসে তাঁর প্রাধিকারভুক্ত জ্বালানি সুবিধা থেকে বিরত থাকবেন। ফকির মাহবুব আনাম একইসঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে রয়েছেন।

সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচির অংশ

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম প্রথম আলোকে বলেন, "দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।" তাঁর এই পদক্ষেপ জ্বালানি সংরক্ষণে সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রীর এই ইচ্ছার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্ত্রীদের জ্বালানি সুবিধার বিধান

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা 'দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট' অনুযায়ী প্রদান করা হয়। ১৯৭৩ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর আদেশে এ অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, যা সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১২ মে সংশোধন করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই অ্যাক্টের আওতায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা জ্বালানি বাবদ দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানি তেলের সমপরিমাণ টাকা পান। এছাড়া তাঁরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহনভাতা হিসেবেও গ্রহণ করেন। ফকির মাহবুব আনামের সিদ্ধান্তে এই সুবিধাগুলো তিন মাসের জন্য স্থগিত থাকবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী জ্বালানি সংকট ও সরকারি পদক্ষেপ

এর আগে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি সংকটের মধ্যে চলতি মাসের ৩ তারিখে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ কমায় সরকার। সে সময় জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা জ্বালানির মাসিক বরাদ্দের ৩০ শতাংশ কম নেবেন। ফকির মাহবুব আনামের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এই ধারাবাহিকতায় একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের এই কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি জনসাধারণের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। মন্ত্রীর এই স্বেচ্ছাসেবী পদক্ষেপ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।