চট্টগ্রামে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে সরকারি মূল্যের চেয়ে ৩৭২ টাকা বেশি
চট্টগ্রাম নগরে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা হলেও বাস্তবে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়। অর্থাৎ, ভোক্তাদের অতিরিক্ত ১২২ থেকে ৩৭২ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ ও বাস্তবতা
৮ এপ্রিল রাতে মোহাম্মদ ফারুকের বাসায় সিলিন্ডার গ্যাস শেষ হয়ে যায়। তিনি কয়েকটি দোকান ঘুরে শেষ পর্যন্ত ২ হাজার টাকায় সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হন। ফারুকের মতো অনেক ভোক্তাই অভিযোগ করছেন, সরকারি দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। চট্টগ্রামের হিলভিউ, টেকনিক্যাল মোড়, ষোলশহর, উত্তর কাট্টলি, এনায়েতবাজার ও ২ নম্বর গেট এলাকার দোকানগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
বিক্রেতাদের অবস্থান
ষোলশহরের মেসার্স আরমান এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ইচ্ছা করে বাড়তি নিচ্ছি না। পরিবেশকের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। না হলে সরকারি দামে বিক্রি করতে আপত্তি কোথায়?’ তিনি জানান, ওমেরা ২ হাজার ১০০ টাকা, বেক্সিমকো ২ হাজার ৫০, ইউনিগ্যাস ২ হাজার, বিএম ১ হাজার ৯০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।
পরিবেশক ও ডিলারদের বক্তব্য
চট্টগ্রাম মহানগর এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরস-ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ‘আমাদের হিসাব মিলছে না। এ অবস্থায় ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই কোম্পানি থেকে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পেলে ১৮ এপ্রিল থেকে চট্টগ্রামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ পরিবেশকরা দাবি করছেন, কোম্পানি থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে, যা খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়াচ্ছে।
সরকারি পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া
৭ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকদের বাড়তি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের চিঠি দেয়। এরপর এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) সরকারি মূল্যে বিক্রির জন্য অনুরোধ জানায়। এলওএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, তাঁরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আশা করছেন।
ভোক্তাদের উপর চাপ
চট্টগ্রামের ২ নম্বর গেট এলাকার স্কুলশিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি সিলিন্ডার এক মাসেই শেষ হয়, কখনো ২০ দিনেই। দাম একটু বাড়লেই মাসের হিসাব মেলাতে কষ্ট হয়ে যায়।’ আতুরার ডিপো এলাকার মাহবুব হাসানও একই চাপের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বাড়তি টাকা দিতে গিয়ে আর্থিক সংকট তৈরি হচ্ছে।
বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ
দেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যা ১৮টি দেশ থেকে আমদানি করা হয়। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও আমদানিকারক কোম্পানি; সবাই যেন দায় ঠেলে দিচ্ছে একে অপরের দিকে। আর মাঝখানে পড়ে প্রতিদিন বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।’ এই অস্থিরতা দ্রুত কাটানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।



